প্রতিমন্ত্রীর উদ্বেগ প্রকাশের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সাম্প্রতিক অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর সংবাদের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, প্রতিমন্ত্রীর কোনো অফিশিয়াল অনুমোদন বা লিখিত নির্দেশনা ছাড়া তার নাম ব্যবহার করে পরিচালিত যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত কর্মকাণ্ডের দায় তিনি বা তার কার্যালয় বহন করবে না। কোনো ব্যক্তি যেন নিজ উদ্যোগে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে দাবি করে কোনো প্রকার মামলা, অনাকাঙ্ক্ষিত বিবৃতি বা অন্য কোনো বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ না করেন, সে বিষয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু নির্দিষ্ট গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীকে জড়িয়ে নানা ধরণের যাচাইবিহীন ও কাল্পনিক তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ জনমনে তীব্র বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং অপ্রয়োজনীয় সামাজিক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। এই প্রসঙ্গে দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর চারজনকে ঘিরে ঘটে যাওয়া আলোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে এবং দেশের প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করে খুব দ্রুত একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এসব অপপ্রচার রোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল এর নীতিমালা অনুযায়ী তথ্য যাচাইয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
একই সাথে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি কামনা করে প্রতিমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই মামলার বর্তমান বাদী নিজেও একজন পেশাদার সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের একজন নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো সাংবাদিক সমাজের মধ্যে নতুন করে কোনো বিভাজন, ভুল বোঝাবুঝি বা তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি না করে সকলকে সর্বোচ্চ সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সঠিক তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও অপপ্রচার অনেকাংশে কমে আসবে।
গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় ও স্বাধীন পরিবেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি যেকোনো সংবাদ বা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করাও নাগরিকদের জন্য সমানভাবে প্রয়োজন বলে প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয় মনে করে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট সকলকে যেকোনো স্পর্শকাতর বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ এবং দেশের প্রচলিত আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এর মূল দর্শনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে। সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমেই কেবল সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব এবং যেকোনো ধরনের গুজব বা অপতথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা প্রতিটি সচেতন নাগরিকের প্রধান দায়িত্ব।


























