সকালের ক্লান্তি দূর করতে কিংবা কাজে মনোযোগ বাড়াতে অনেকেরই প্রথম পছন্দ এক কাপ কফি। তবে অতিরিক্ত কফি পান ঘুমের সময় কমিয়ে দিতে পারে এবং হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কফি পরিমিত মাত্রায় পান করা নিরাপদ হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ কিছু মানুষের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা কফির প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ। এতে কফি পান মানুষের ঘুম, শারীরিক কার্যক্রম এবং হৃদযন্ত্রের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় ২৬ থেকে ৫২ বছর বয়সী ১০০ জন অংশগ্রহণকারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গবেষকরা ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) যন্ত্রের সাহায্যে টানা দুই সপ্তাহ তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। অংশগ্রহণকারীদের একদলকে দিনে চারবার এক কাপ করে কফি পান করতে দেওয়া হয়, অন্য দলকে কফি দেওয়া হয়নি।
ফলাফলে দেখা যায়, যারা নিয়মিত কফি পান করেছেন তারা তুলনামূলক বেশি সক্রিয় ছিলেন। কফি পানকারীরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজার ধাপ বেশি হাঁটতে পেরেছেন। গবেষকদের মতে, ক্যাফেইন সাময়িকভাবে শরীরকে সতেজ রাখতে এবং কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
তবে কফির ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক প্রভাবও পাওয়া গেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া কফি পানকারীদের রাতের ঘুম গড়ে প্রায় ৩৫ মিনিট কম হয়েছে। অর্থাৎ ক্যাফেইন ঘুমের স্বাভাবিক চক্রে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফিতে থাকা ক্যাফেইন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এর ফলে শরীর দীর্ঘ সময় সজাগ থাকে এবং ঘুম আনার জন্য প্রয়োজনীয় জৈবিক প্রক্রিয়াগুলো ধীর হয়ে যায়। এ কারণেই অনেকের রাতে ঘুম আসতে দেরি হয় বা ঘুমের মান খারাপ হয়ে যায়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কফি পানকারীদের মধ্যে হৃদযন্ত্রের অনিয়মিত স্পন্দনের প্রবণতা কিছুটা বেশি ছিল। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা বুক ধড়ফড়ের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের প্রভাব বেশি অনুভূত হতে পারে।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদযন্ত্রের ছন্দে অস্বাভাবিকতা দীর্ঘমেয়াদে জটিলতা তৈরি করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা পরবর্তীতে স্ট্রোকের কারণও হতে পারে। তাই যাদের হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে, তাদের কফি পানের বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, ঘুম বিশেষজ্ঞরা মনে করেন পর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে হৃদযন্ত্রের সুস্থতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং অন্যান্য শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই ক্যাফেইন গ্রহণের সময় ও পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে যাদের ঘুমের সমস্যা, উদ্বেগ, বুক ধড়ফড় বা হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা রয়েছে, তাদের কফি সীমিত পরিমাণে পান করা উচিত। পাশাপাশি শরীরকে চাঙ্গা রাখতে পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ব্যায়ামের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।





























