ঢাকা ০৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জোরালো বার্তা বাংলাদেশের Logo ব্রাজিলের জয়ে টিএসসিতে উল্লাসে মাতল ঢাবি Logo আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি Logo ‘কোনো অহংকার ছিল না জাভেদ ভাইয়ের’: স্মৃতিকাতর রোজিনা Logo প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে: উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সহযোগিতার নতুন দিক Logo স্টার্টআপ জগতে বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত চাহিদা ও বাস্তবতা Logo বিশ্বব্যাপী উদ্যোক্তারা কেন দ্বিতীয় নাগরিকত্বকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন Logo বিশ্বকাপে আবারও ইতিহাস গড়ল ব্রাজিল, জার্মানিকে টপকে শীর্ষে গোলদাতা দল Logo বাজারচাপে কর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের পথে বিএমডব্লিউ Logo যুদ্ধ-পরবর্তী পুনরুদ্ধারে গালফ এয়ারলাইনসের নতুন অগ্রগতি

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি

আমিন মোহাম্মদ ওমর

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করেছে ফিফা। মাঠে কঠোরতা, নিয়মানুবর্তিতা ও ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি বেশ পরিচিত।

বিশ্বকাপে এটি তাঁর প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্ট হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি নতুন নন। দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন এই মিসরীয় রেফারি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তা ফিফার আস্থার অন্যতম কারণ।

দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অভিষেক হয় আমিন মোহাম্মদ ওমরের। সেই ম্যাচেই তিনি নতুনভাবে আলোচনায় আসেন। থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ কঠোরভাবে কার্যকর করে নজর কেড়েছিলেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্ডার হান-বম লি থ্রো-ইন নিতে দেরি করায় মাঠেই কাউন্টডাউন শুরু করেন ওমর। নিয়ম প্রয়োগে কোনো ধরনের দ্বিধা না দেখানো তাঁর পেশাদার মানসিকতারই প্রতিফলন ছিল। ফুটবল বিশ্বেও বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

আমিন মোহাম্মদ ওমর ২০১৭ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় রয়েছেন। তবে তারও আগে, ২০১৩ সাল থেকে তিনি মিসরীয় প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারি হিসেবেই তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও তাঁর অভিজ্ঞতা কম নয়। ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একাধিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

মাঠের বাইরেও তাঁর আরেকটি পরিচয় রয়েছে। রেফারিংয়ের পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। অনেকেই মনে করেন, আইনের প্রতি তাঁর গভীর বোঝাপড়া মাঠের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও বেশ সমৃদ্ধ। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এই সময়ে প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি।

শুধু মিসর নয়, সৌদি আরবের প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করেছেন ওমর। বিশেষ করে উচ্চচাপের ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতার জন্য তিনি প্রশংসিত। ফলে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

তবে পুরো ক্যারিয়ার বিতর্কমুক্ত ছিল না। গত বছর মিসরের ক্লাব পিরামিডস এফসি তাঁর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোকে কেন্দ্র করেই সেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

পিরামিডস এফসির অভিযোগ ছিল, ম্যাচ চলাকালীন তাঁদের কোচের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর আচরণ করেছিলেন ওমর। যদিও বিষয়টি বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপে গড়ায়নি। তারপরও ঘটনাটি তাঁর ক্যারিয়ারে আলোচিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

সোমবারের আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে আমিন মোহাম্মদ ওমরের সঙ্গে থাকবেন তাঁর দুই স্বদেশী সহকারী মাহমুদ আবুএলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। আর চতুর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পেনের অভিজ্ঞ রেফারি আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে তিনি কতটা সফলভাবে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ফের জোরালো বার্তা বাংলাদেশের

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি

Update Time : ০২:২৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করেছে ফিফা। মাঠে কঠোরতা, নিয়মানুবর্তিতা ও ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি বেশ পরিচিত।

বিশ্বকাপে এটি তাঁর প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্ট হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি নতুন নন। দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন এই মিসরীয় রেফারি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তা ফিফার আস্থার অন্যতম কারণ।

দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অভিষেক হয় আমিন মোহাম্মদ ওমরের। সেই ম্যাচেই তিনি নতুনভাবে আলোচনায় আসেন। থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ কঠোরভাবে কার্যকর করে নজর কেড়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন  ব্রাজিল দলে মেসিকে চান প্রেসিডেন্ট লুলা, মজা নাকি বার্তা?

দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্ডার হান-বম লি থ্রো-ইন নিতে দেরি করায় মাঠেই কাউন্টডাউন শুরু করেন ওমর। নিয়ম প্রয়োগে কোনো ধরনের দ্বিধা না দেখানো তাঁর পেশাদার মানসিকতারই প্রতিফলন ছিল। ফুটবল বিশ্বেও বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

আমিন মোহাম্মদ ওমর ২০১৭ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় রয়েছেন। তবে তারও আগে, ২০১৩ সাল থেকে তিনি মিসরীয় প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারি হিসেবেই তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও তাঁর অভিজ্ঞতা কম নয়। ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একাধিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

আরও পড়ুন  সমালোচনার মুখে পানির বোতল নীতিতে সিদ্ধান্ত বদলালো ফিফা

মাঠের বাইরেও তাঁর আরেকটি পরিচয় রয়েছে। রেফারিংয়ের পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। অনেকেই মনে করেন, আইনের প্রতি তাঁর গভীর বোঝাপড়া মাঠের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও বেশ সমৃদ্ধ। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এই সময়ে প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি।

শুধু মিসর নয়, সৌদি আরবের প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করেছেন ওমর। বিশেষ করে উচ্চচাপের ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতার জন্য তিনি প্রশংসিত। ফলে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

তবে পুরো ক্যারিয়ার বিতর্কমুক্ত ছিল না। গত বছর মিসরের ক্লাব পিরামিডস এফসি তাঁর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোকে কেন্দ্র করেই সেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

আরও পড়ুন  টাইগারদের বীরোচিত লড়াই, ৭ রানের জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করলো অস্ট্রেলিয়া

পিরামিডস এফসির অভিযোগ ছিল, ম্যাচ চলাকালীন তাঁদের কোচের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর আচরণ করেছিলেন ওমর। যদিও বিষয়টি বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপে গড়ায়নি। তারপরও ঘটনাটি তাঁর ক্যারিয়ারে আলোচিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

সোমবারের আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে আমিন মোহাম্মদ ওমরের সঙ্গে থাকবেন তাঁর দুই স্বদেশী সহকারী মাহমুদ আবুএলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। আর চতুর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পেনের অভিজ্ঞ রেফারি আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে তিনি কতটা সফলভাবে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন।