ঢাকা ০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ৫ আগস্ট কেন ‘৩৬ জুলাই’? Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাতির উদ্দেশে যা বলেছিলেন ড. ইউনূস Logo আজ ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর Logo চট্টগ্রামে একদিনে ঘুরুন যে ৬ মনোমুগ্ধকর সমুদ্রসৈকতে Logo অবিশ্বাস্য রেকর্ড! নাথান থমাস বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হলেন Logo ম্রুণাল ঠাকুরের কঠোর সতর্কবার্তা: AI ডিপফেক অপব্যবহারে আইনি ব্যবস্থা Logo রিজভীর বিস্ফোরক দাবি: জনগণের পারমাণবিক শক্তিতে ফ্যাসিবাদের পতন Logo বিপজ্জনক গ্রহাণু প্রতিরোধ: বিজ্ঞানীদের শক্তিশালী নতুন পরিকল্পনা Logo টানা দুই সপ্তাহ নিয়মিত ডিম খেলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসে Logo টেলিগ্রাম অ্যাপ স্টোর: হঠাৎ উধাও, অবশেষে সামনে এলো বড় কারণ?

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি

আমিন মোহাম্মদ ওমর

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করেছে ফিফা। মাঠে কঠোরতা, নিয়মানুবর্তিতা ও ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি বেশ পরিচিত।

বিশ্বকাপে এটি তাঁর প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্ট হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি নতুন নন। দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন এই মিসরীয় রেফারি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তা ফিফার আস্থার অন্যতম কারণ।

দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অভিষেক হয় আমিন মোহাম্মদ ওমরের। সেই ম্যাচেই তিনি নতুনভাবে আলোচনায় আসেন। থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ কঠোরভাবে কার্যকর করে নজর কেড়েছিলেন তিনি।

দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্ডার হান-বম লি থ্রো-ইন নিতে দেরি করায় মাঠেই কাউন্টডাউন শুরু করেন ওমর। নিয়ম প্রয়োগে কোনো ধরনের দ্বিধা না দেখানো তাঁর পেশাদার মানসিকতারই প্রতিফলন ছিল। ফুটবল বিশ্বেও বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

আমিন মোহাম্মদ ওমর ২০১৭ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় রয়েছেন। তবে তারও আগে, ২০১৩ সাল থেকে তিনি মিসরীয় প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারি হিসেবেই তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও তাঁর অভিজ্ঞতা কম নয়। ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একাধিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

মাঠের বাইরেও তাঁর আরেকটি পরিচয় রয়েছে। রেফারিংয়ের পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। অনেকেই মনে করেন, আইনের প্রতি তাঁর গভীর বোঝাপড়া মাঠের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও বেশ সমৃদ্ধ। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এই সময়ে প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি।

শুধু মিসর নয়, সৌদি আরবের প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করেছেন ওমর। বিশেষ করে উচ্চচাপের ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতার জন্য তিনি প্রশংসিত। ফলে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

তবে পুরো ক্যারিয়ার বিতর্কমুক্ত ছিল না। গত বছর মিসরের ক্লাব পিরামিডস এফসি তাঁর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোকে কেন্দ্র করেই সেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

পিরামিডস এফসির অভিযোগ ছিল, ম্যাচ চলাকালীন তাঁদের কোচের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর আচরণ করেছিলেন ওমর। যদিও বিষয়টি বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপে গড়ায়নি। তারপরও ঘটনাটি তাঁর ক্যারিয়ারে আলোচিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

সোমবারের আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে আমিন মোহাম্মদ ওমরের সঙ্গে থাকবেন তাঁর দুই স্বদেশী সহকারী মাহমুদ আবুএলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। আর চতুর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পেনের অভিজ্ঞ রেফারি আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে তিনি কতটা সফলভাবে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন।

৫ আগস্ট কেন ‘৩৬ জুলাই’?

আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে থাকছেন মিসরের ‘কড়া’ আইনজীবী রেফারি

Update Time : ০২:২৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন মিসরের অভিজ্ঞ রেফারি আমিন মোহাম্মদ ওমর। আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচের জন্য তাঁকে নির্বাচিত করেছে ফিফা। মাঠে কঠোরতা, নিয়মানুবর্তিতা ও ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি বেশ পরিচিত।

বিশ্বকাপে এটি তাঁর প্রথম বড় অ্যাসাইনমেন্ট হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে তিনি নতুন নন। দীর্ঘদিন ধরেই আফ্রিকান ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন এই মিসরীয় রেফারি। তাঁর অভিজ্ঞতা ও দৃঢ়তা ফিফার আস্থার অন্যতম কারণ।

দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে অভিষেক হয় আমিন মোহাম্মদ ওমরের। সেই ম্যাচেই তিনি নতুনভাবে আলোচনায় আসেন। থ্রো-ইনের ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো ‘৫ সেকেন্ডের সময়সীমা’ কঠোরভাবে কার্যকর করে নজর কেড়েছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন  এন্দ্রিককে নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের পথে রিয়াল, থাকবেন নাকি ধারে যাবেন?

দক্ষিণ কোরিয়ার ডিফেন্ডার হান-বম লি থ্রো-ইন নিতে দেরি করায় মাঠেই কাউন্টডাউন শুরু করেন ওমর। নিয়ম প্রয়োগে কোনো ধরনের দ্বিধা না দেখানো তাঁর পেশাদার মানসিকতারই প্রতিফলন ছিল। ফুটবল বিশ্বেও বিষয়টি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

আমিন মোহাম্মদ ওমর ২০১৭ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারি তালিকায় রয়েছেন। তবে তারও আগে, ২০১৩ সাল থেকে তিনি মিসরীয় প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত ম্যাচ পরিচালনা করে আসছেন। দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রেফারি হিসেবেই তাঁর পরিচিতি গড়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও তাঁর অভিজ্ঞতা কম নয়। ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের একাধিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপেও রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ঝুলিতে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের দায়িত্ব হারালেন আফ্রিকান রেফারি, প্রবেশে বাধা যুক্তরাষ্ট্রের

মাঠের বাইরেও তাঁর আরেকটি পরিচয় রয়েছে। রেফারিংয়ের পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। অনেকেই মনে করেন, আইনের প্রতি তাঁর গভীর বোঝাপড়া মাঠের সিদ্ধান্ত গ্রহণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানও বেশ সমৃদ্ধ। সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২৬৯টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। এই সময়ে প্রায় ৯৮০টি হলুদ কার্ড এবং ২৫টি লাল কার্ড দেখিয়েছেন তিনি।

শুধু মিসর নয়, সৌদি আরবের প্রো লিগসহ বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘরোয়া প্রতিযোগিতার ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করেছেন ওমর। বিশেষ করে উচ্চচাপের ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার দক্ষতার জন্য তিনি প্রশংসিত। ফলে বিশ্বসেরা ফুটবলারদের সামলানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর রয়েছে।

তবে পুরো ক্যারিয়ার বিতর্কমুক্ত ছিল না। গত বছর মিসরের ক্লাব পিরামিডস এফসি তাঁর একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। ইসমাইলি এসসির বিপক্ষে ম্যাচে কোচ ক্রুনোস্লাভ জুরচিচকে লাল কার্ড দেখানোকে কেন্দ্র করেই সেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ ফাইনাল বিশ্রাম সুবিধা: আর্জেন্টিনা কি ইতিহাসের চাপে?

পিরামিডস এফসির অভিযোগ ছিল, ম্যাচ চলাকালীন তাঁদের কোচের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর আচরণ করেছিলেন ওমর। যদিও বিষয়টি বড় কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপে গড়ায়নি। তারপরও ঘটনাটি তাঁর ক্যারিয়ারে আলোচিত অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।

সোমবারের আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচে আমিন মোহাম্মদ ওমরের সঙ্গে থাকবেন তাঁর দুই স্বদেশী সহকারী মাহমুদ আবুএলরেগাল ও আহমেদ হোসাম তাহা। আর চতুর্থ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পেনের অভিজ্ঞ রেফারি আলেহান্দ্রো হার্নান্দেজ। এখন দেখার বিষয়, বিশ্বকাপের আরেকটি বড় মঞ্চে তিনি কতটা সফলভাবে ম্যাচ পরিচালনা করতে পারেন।