ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বৈলতলী’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস রওশনহাট’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন Logo বাংলাদেশের এলএনজি বাজারে এবার রাশিয়ার আগ্রহ, সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-চীন Logo তিন মাসেও বোর্ড নেই, কমছে আমানত, ইসলামী ব্যাংকের সামনে বড় সংকট Logo জবিতে সংঘর্ষ ও রিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ ছাত্র ফ্রন্টের Logo ট্রাম্প-শির বৈঠকে বাণিজ্য, এআই ও বিরল খনিজ নিয়ে আলোচনা Logo ঢাবিতে অপ্রতিম-আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে মশাল মিছিল Logo চন্দনাইশে বসতভিটার বিরোধ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ Logo চন্দনাইশে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ মাদকসেবী গ্রেপ্তার, মোবাইল কোর্টে কারাদণ্ড Logo ওয়ান হেলথ: পরিবেশ-জনস্বাস্থ্য সমন্বয়ে মন্ত্রীর বার্তা

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপানের ৪ গোলের ইতিহাস, বিদায় তিউনিসিয়ার

জাপানের বড় জয়

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক হাজারতম ম্যাচকে নিজেদের জন্য স্মরণীয় করে রাখল জাপান। ‘এফ’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু বড় জয়ই পায়নি, একই সঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

এই জয়ের মাধ্যমে আরেকটি ইতিহাসও গড়েছে জাপান। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে কোনো এশিয়ান দেশের করা সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড এটি। জাপানের চার গোলের মধ্যে দুটি করেছেন স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা, আর বাকি দুটি এসেছে দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতোর পা থেকে।

অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তিউনিসিয়ার। শেষ ম্যাচে জিতলেও তাদের ভাগ্য বদলানোর কোনো সুযোগ থাকছে না। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেল উত্তর আফ্রিকার দেশটির।

মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল তিউনিসিয়ার জন্য নতুন শুরুর সুযোগ। প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর কোচ সাব্রি লামুশিকে বরখাস্ত করে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ হার্ভে রেনারকে।

তবে কোচ পরিবর্তনও তিউনিসিয়ার ভাগ্য বদলাতে পারেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জাপান। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই দাইচি কামাদার গোলে এগিয়ে যায় দলটি, যা তিউনিসিয়াকে দ্রুত চাপে ফেলে দেয়।

শুরুতে গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তিউনিসিয়া খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং পুরো প্রথমার্ধজুড়েই জাপানের আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাদের রক্ষণভাগকে। জাপানের দ্রুত গতির আক্রমণ বারবার সমস্যায় ফেলে আফ্রিকান দলটিকে।

প্রথমার্ধের ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়াসে উয়েদা। ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন। এরপর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে জাপান।

দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে এশিয়ান দলটি। ৬৯তম মিনিটে জুনিয়া ইতো তৃতীয় গোলটি করে তিউনিসিয়ার শেষ আশা ভেঙে দেন। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে আবারও জালে বল পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন উয়েদা।

এই বড় জয় জাপানের জন্য গ্রুপ পর্বের সমীকরণও সহজ করে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র করার পর তাদের পয়েন্ট হয়েছিল এক। দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট যোগ হওয়ায় এখন জাপানের সংগ্রহ চার পয়েন্ট।

একই সংখ্যক চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ লড়াইয়ে রয়েছে নেদারল্যান্ডসও। ফলে শেষ ম্যাচে জাপান ও ডাচদের লড়াই হতে যাচ্ছে সরাসরি নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করার ম্যাচ। দুই দলের এই লড়াই এখন গ্রুপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে তিউনিসিয়ার সামনে আর কোনো সম্ভাবনা নেই। শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারালেও তাদের পয়েন্ট তিনের বেশি হবে না। এমনকি সুইডেনও যদি শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্টে আটকে যায়, তারপরও হেড-টু-হেড সমীকরণে তিউনিসিয়ার তৃতীয় স্থানে ওঠার সুযোগ থাকবে না।

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ তাই শুধু একটি মাইলফলক হিসেবেই নয়, জাপানের শক্তির বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুর্দান্ত আক্রমণভাগ, আত্মবিশ্বাসী ফুটবল এবং রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে নকআউটের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল এশিয়ার প্রতিনিধি দলটি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে পূবালী ব্যাংকের ‘ক্যাশলেস বৈলতলী’ ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপানের ৪ গোলের ইতিহাস, বিদায় তিউনিসিয়ার

Update Time : ০৪:৩১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক হাজারতম ম্যাচকে নিজেদের জন্য স্মরণীয় করে রাখল জাপান। ‘এফ’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শুধু বড় জয়ই পায়নি, একই সঙ্গে নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনাও অনেকটাই বাড়িয়ে নিয়েছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।

এই জয়ের মাধ্যমে আরেকটি ইতিহাসও গড়েছে জাপান। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে কোনো এশিয়ান দেশের করা সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড এটি। জাপানের চার গোলের মধ্যে দুটি করেছেন স্ট্রাইকার আয়াসে উয়েদা, আর বাকি দুটি এসেছে দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতোর পা থেকে।

অন্যদিকে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তিউনিসিয়ার। শেষ ম্যাচে জিতলেও তাদের ভাগ্য বদলানোর কোনো সুযোগ থাকছে না। ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয়ে গেল উত্তর আফ্রিকার দেশটির।

আরও পড়ুন  জার্মানির টাইব্রেকার রেকর্ড ভাঙল প্যারাগুয়ে

মেক্সিকোর মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল তিউনিসিয়ার জন্য নতুন শুরুর সুযোগ। প্রথম ম্যাচে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর কোচ সাব্রি লামুশিকে বরখাস্ত করে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। তার জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় অভিজ্ঞ ফরাসি কোচ হার্ভে রেনারকে।

তবে কোচ পরিবর্তনও তিউনিসিয়ার ভাগ্য বদলাতে পারেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে জাপান। মাত্র চতুর্থ মিনিটেই দাইচি কামাদার গোলে এগিয়ে যায় দলটি, যা তিউনিসিয়াকে দ্রুত চাপে ফেলে দেয়।

শুরুতে গোল হজম করার পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তিউনিসিয়া খুব একটা সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। বরং পুরো প্রথমার্ধজুড়েই জাপানের আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকতে হয়েছে তাদের রক্ষণভাগকে। জাপানের দ্রুত গতির আক্রমণ বারবার সমস্যায় ফেলে আফ্রিকান দলটিকে।

আরও পড়ুন  মেসির বড় ঘোষণা, ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে সব জল্পনার অবসান

প্রথমার্ধের ৩১তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আয়াসে উয়েদা। ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের প্রথম গোলটি করেন। এরপর আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে জাপান।

দ্বিতীয়ার্ধেও খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে এশিয়ান দলটি। ৬৯তম মিনিটে জুনিয়া ইতো তৃতীয় গোলটি করে তিউনিসিয়ার শেষ আশা ভেঙে দেন। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে আবারও জালে বল পাঠিয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন উয়েদা।

এই বড় জয় জাপানের জন্য গ্রুপ পর্বের সমীকরণও সহজ করে দিয়েছে। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে ড্র করার পর তাদের পয়েন্ট হয়েছিল এক। দ্বিতীয় ম্যাচে পূর্ণ তিন পয়েন্ট যোগ হওয়ায় এখন জাপানের সংগ্রহ চার পয়েন্ট।

আরও পড়ুন  ওমর সানীর ক্ষোভ: আর্জেন্টিনা ভক্তদের ‘নির্লজ্জ’ বললেন

একই সংখ্যক চার পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষ লড়াইয়ে রয়েছে নেদারল্যান্ডসও। ফলে শেষ ম্যাচে জাপান ও ডাচদের লড়াই হতে যাচ্ছে সরাসরি নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করার ম্যাচ। দুই দলের এই লড়াই এখন গ্রুপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে তিউনিসিয়ার সামনে আর কোনো সম্ভাবনা নেই। শেষ ম্যাচে নেদারল্যান্ডসকে হারালেও তাদের পয়েন্ট তিনের বেশি হবে না। এমনকি সুইডেনও যদি শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্টে আটকে যায়, তারপরও হেড-টু-হেড সমীকরণে তিউনিসিয়ার তৃতীয় স্থানে ওঠার সুযোগ থাকবে না।

বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচ তাই শুধু একটি মাইলফলক হিসেবেই নয়, জাপানের শক্তির বার্তা দেওয়ার মঞ্চ হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দুর্দান্ত আক্রমণভাগ, আত্মবিশ্বাসী ফুটবল এবং রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে নকআউটের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল এশিয়ার প্রতিনিধি দলটি।