ইতোমধ্যেই ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করা বিশ্বকাপের নতুন ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নিয়ম নিয়ে এবার সরব হয়েছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। তাঁর মতে, ম্যাচের মাঝের এই বাধ্যতামূলক বিরতি ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করছে এবং খেলাকে অস্বাভাবিকভাবে বদলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, এই নিয়মের পেছনে অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে।
বিশ্বকাপের ‘জে’ গ্রুপে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়ে কথা বলেন স্কালোনি। খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ফিফা এই নিয়ম চালু করলেও, আর্জেন্টিনা কোচের মতে বাস্তবে এর প্রভাব অনেকটাই নেতিবাচক।
এবারের বিশ্বকাপে তীব্র গরমের কারণে প্রতিটি অর্ধে নির্দিষ্ট সময়ে প্রায় তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক বিরতি রাখা হয়েছে। এই সময় খেলোয়াড়রা পানি পান করার পাশাপাশি কোচদের কাছ থেকেও নতুন নির্দেশনা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
তবে সমালোচকদের দাবি, অধিকাংশ ম্যাচেই এই বিরতি প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি ম্যাচের গতি, উত্তেজনা এবং স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করেছে। ফলে দর্শকরাও আগের মতো টানা উপভোগ করতে পারছেন না।
স্কালোনি বলেন, তুলনামূলক দুর্বল দলগুলো এই অতিরিক্ত বিরতি থেকে বাড়তি সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। কোনো শক্তিশালী দল যখন নিজেদের ছন্দ তৈরি করে আক্রমণে এগিয়ে যায়, তখন এই বিরতি এসে সেই ধারাবাহিকতা ভেঙে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, মূলত বাড়তি কিছু সময় পাওয়ার জন্যই এই নিয়ম তৈরি করা হয়েছে। এতে ফুটবলের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। খেলাটাকে চারটি অর্ধে ভাগ করে দেওয়ার বিষয়টি এখনো আমার কাছে অবাস্তব মনে হয়।’
আর্জেন্টিনা কোচের মতে, ম্যাচের মাঝপথে এত দীর্ঘ বিরতি ফুটবলের পরিচিত কাঠামোকেও বদলে দিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে যে ছন্দে ফুটবল খেলা হয়েছে, সেখানে হঠাৎ এমন পরিবর্তন গ্রহণ করা সহজ নয়।
হাফটাইম এবং অতিরিক্ত বিরতির সময় নিয়ে নিজের কৌশল সম্পর্কেও কথা বলেন তিনি। স্কালোনির মতে, ম্যাচের পরিস্থিতি এত দ্রুত বদলে যায় যে আগে থেকে করা পরিকল্পনাও মুহূর্তের মধ্যে পরিবর্তন করতে হয়।
তিনি বলেন, ‘আমার মাথায় যা কিছুই থাকুক না কেন, ওই ২২ মিনিটে কী ঘটছে তার ওপর ভিত্তি করে সব সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে। গ্যালারিতে আমাদের বিশ্লেষকরা কাজ করছেন, আবার ডাগআউট থেকেও আমরা সবকিছু পর্যবেক্ষণ করছি।’
স্কালোনির মতে, আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা দলগুলো এই অতিরিক্ত সময়কে নিজেদের ভুল সংশোধনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তবে তারপরও পুরো ব্যবস্থার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া তাঁর কাছে এখনো অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘যদি ভবিষ্যতে নিয়মটি স্থায়ীভাবে চালু থাকে, তাহলে হয়তো একসময় সবাই এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেবে। কিন্তু এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এটা মোটেও স্বাভাবিক কিছু নয়।’
স্কালোনির আগে একই বিষয়ে সরব হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোও। তাঁর মতে, শুধুমাত্র আবহাওয়া চরম প্রতিকূল হলে এমন বিরতি দেওয়া উচিত, অন্যথায় এটি অপ্রয়োজনীয়।
উরুগুয়ের অভিজ্ঞ কোচ মার্সেলো বিয়েলসাও এই নিয়মের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, এই নিয়ম ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করছে না, বরং খেলার অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কেড়ে নিচ্ছে।
বিয়েলসা আরও বলেন, ম্যাচকে চার ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ফুটবলের আকর্ষণীয় দিকগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে যথেষ্ট চিন্তা করা হয়নি। তাঁর ধারণা, এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে, যদিও সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করতে চাননি।
বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নতুন এই নিয়ম নিয়ে খেলোয়াড়, কোচ এবং সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সমালোচনার মুখে ফিফা ভবিষ্যতে এই নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনে কি না।





























