মস্কোর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সোমবার ভোরে হওয়া এই হামলার কারণে রাজধানীর কয়েকটি বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে রুশ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, শহরের দিকে আসা প্রায় ৬০টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার পর জরুরি সেবা সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ড্রোন হামলার কারণে মস্কোর প্রধান চারটি বিমানবন্দর সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এক রাতেই দেশজুড়ে মোট ৩০১টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে মস্কোর একমাত্র তেল শোধনাগারে হামলার পর নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাজধানীকে লক্ষ্য করে এটি অন্যতম বড় ড্রোন হামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের সুমি অঞ্চলে রুশ ড্রোন হামলায় একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর, তার বাবা ও দাদি রয়েছেন। হামলায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝঝিয়া শহরে ড্রোন হামলায় একজন নারী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন। এছাড়া ওডেসা অঞ্চলে ইস্কান্দার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হন। হামলায় একটি কৃষি স্থাপনা ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে উন্মুক্ত জনসমাগমমূলক অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। ইউক্রেনীয় হামলার কারণে সেখানে জ্বালানি সংকটও দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য জ্বালানি বিক্রি সীমিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে ইউক্রেনের নৌবাহিনী জানিয়েছে, রুশ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে পানামার পতাকাবাহী তুরস্কের মালিকানাধীন পণ্যবাহী জাহাজ ‘ভিকট্রেস’। হামলায় এক মিশরীয় নাবিক নিহত হন এবং কয়েকজনকে লাইফবোটে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন, আরও দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার মুখে পড়লেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে জাহাজগুলো তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলা যুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে মস্কোর দিকে ড্রোন হামলা বাড়ছে, অন্যদিকে ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকা ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোও হামলার শিকার হচ্ছে। ফলে যুদ্ধের প্রভাব ক্রমেই সাধারণ মানুষ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বাড়ছে।




























