ককরোচ পার্টির আন্দোলন নতুন মোড় নিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, আলোচনা হলে তা আন্দোলনস্থল দিল্লির যন্তর মন্তরে অথবা নিরপেক্ষ কোনো স্থানে অনুষ্ঠিত হতে হবে।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সিজেপি নেতাদের আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তবে দলটির নেতারা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। সিজেপি নেতা অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার যদি সত্যিই সমাধান চায়, তাহলে মন্ত্রীদের আন্দোলনস্থলে এসে আলোচনা করতে হবে অথবা উভয় পক্ষের সম্মতিতে নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকের আয়োজন করতে হবে।
এর আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস ও চলমান আন্দোলনের বিষয়টি সরকারের কাছে মর্যাদার প্রশ্ন নয়। তিনি বলেন, সরকার যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তবে সিজেপি তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে জানায়, নিরপেক্ষ স্থান ছাড়া কোনো বৈঠকে তারা অংশ নেবে না।
এদিকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ ও সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক অসুস্থ হয়ে সাময়িক বিশ্রামের ঘোষণা দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, কিছু সময়ের জন্য আন্দোলনস্থল থেকে দূরে থাকলেও সন্ধ্যার মধ্যে আবার যন্তর মন্তরের প্রতিবাদ মঞ্চে ফিরে আসবেন।
অভিজিৎ দীপকসহ আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় এখনো স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
এর আগে বুধবার রাতে দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। পুলিশের দাবি, পার্লামেন্ট স্ট্রিটের দিকে অগ্রসর হওয়া কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল নিক্ষেপ করেছিলেন। তবে আন্দোলনকারীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন।
ককরোচ পার্টির আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ফলে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সমঝোতা কবে হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।



























