ব্রাজিল শিবিরে অবশেষে ফিরেছে স্বস্তির আবহ। বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রথমবারের মতো দলের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ অনুশীলন সম্পন্ন করেছেন নেইমার জুনিয়র। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে তার এই প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের জন্য বড় সুখবর হয়ে এসেছে।
ডান পায়ের কাফে চোট পাওয়ার কারণে চলতি বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ডকে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অনুশীলনে পুরোপুরি অংশ নিয়ে নিজের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এতে সমর্থকদের মধ্যেও নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
ফ্লোরিডায় বৃহস্পতিবার ভোরে অনুষ্ঠিত হবে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচেই নেইমারকে মাঠে দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তাকে শুরুর একাদশে রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
গত মাসে বিশ্বকাপ ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর এবারই প্রথম পুরো দলের সঙ্গে পূর্ণ সেশনের অনুশীলন করেছেন নেইমার। অনুশীলন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ, ঈশ্বর। আমি ভীষণ আনন্দিত!!!’
নেইমারের প্রত্যাবর্তন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাও। তার মতে, জাতীয় দলের জন্য নেইমারের গুরুত্ব আলাদা এবং দলের মধ্যে তার উপস্থিতি সবাইকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়। তিনি মনে করেন, মাঠে ফিরলেই দলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবেন এই তারকা।
পাকেতা বলেন, নেইমারকে আবার দলের সঙ্গে অনুশীলন করতে দেখে সবাই আনন্দিত। তিনি জাতীয় দলের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার এবং এখনও দলের জন্য অনেক কিছু দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। তাই যত দ্রুত সম্ভব তাকে মাঠে দেখতে চান সতীর্থরাও।
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতাও নেইমার। দেশের হয়ে ১২৯ ম্যাচে তিনি করেছেন ৭৯ গোল। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন তিনি, এরপর চোটের কারণে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপ নেইমারের চতুর্থ আসর। অনেকের কাছেই এটি তার শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পাকেতা বলেন, হয়তো এটাই সত্যি, তবে পুরো দল একসঙ্গে একটি স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই লড়ছে।
পাকেতার ভাষায়, ব্রাজিলের জার্সিতে থাকা পাঁচটি তারকা শুধু ইতিহাসের প্রতীক নয়, এটি কোটি মানুষের স্বপ্নের প্রতিনিধিত্বও করে। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে সবাই নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে প্রস্তুত। বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে দলের প্রতিটি সদস্য একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।
হেক্সা মিশন শুরু হয়েছিল হতাশা দিয়ে। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে হোঁচট খেলেও পরের ম্যাচে হাইতিকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্রাজিল। দুই ম্যাচ শেষে চার পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে গ্রুপ ‘সি’-এর শীর্ষে রয়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
এখন ব্রাজিলের সামনে রয়েছে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার সুযোগ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর সেই ম্যাচে নেইমার মাঠে ফিরলে ব্রাজিলের শক্তি যে আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে, তা বলাই যায়।




























