ঢাকা ০১:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ত্বকের গোটা ব্রণ, সিস্ট নাকি টিউমার? জেনে নিন

ব্রণ, সিস্ট বা অন্য কোনো কারণে ত্বকে ছোট-বড় গোটা দেখা দিতে পারে। | ছবি: সংগৃহীত

ত্বকের গোটা অনেকের কাছেই সাধারণ একটি সমস্যা মনে হলেও এর পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। মুখ, ঘাড়, পিঠ কিংবা শরীরের অন্য যেকোনো স্থানে ছোট বা বড় গোটা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এটি সাধারণ ব্রণ, আবার কখনো সিস্ট, ফোড়া বা টিউমারজাতীয় সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক গোটা দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করে এর ধরন সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।

সবচেয়ে পরিচিত গোটাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রণ। সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ব্রণ দেখা দেয়। তবে শুধু কিশোর-কিশোরীদের নয়, ২০-২২ বছর বয়সের পরেও অনেকেই ব্রণের সমস্যায় ভোগেন। ব্রণের ক্ষেত্রে গোটার ওপর কালচে বা সাদাটে মুখ দেখা যেতে পারে এবং হালকা ব্যথা বা অস্বস্তিও অনুভূত হতে পারে। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ, জীবাণুর সংক্রমণ এবং ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যাওয়াও এর কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, সিস্ট হলো ত্বকের নিচে তৈরি হওয়া তরলপূর্ণ একটি থলির মতো অংশ। এটি সাধারণত নরম অনুভূত হয় এবং ধীরে ধীরে বড় হতে পারে। অনেক সময় সিস্টের মুখ দিয়ে সাদাটে ক্রিমের মতো পদার্থ বের হতে দেখা যায়, যা পুঁজ নয়। তবে সংক্রমণ হলে সেখানে ব্যথা, লালচে ভাব ও পুঁজ তৈরি হতে পারে। সিস্ট ছোট থাকলে সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, কিন্তু বড় হয়ে গেলে বা সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।

ত্বকের গোটা
ত্বকের বিভিন্ন ধরনের গোটা

ত্বকের গোটার আরেকটি সাধারণ কারণ হলো ফোড়া। এটি মূলত জীবাণুর সংক্রমণের ফলে সৃষ্টি হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম ও ময়লা জমে ফোড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফোড়ার ভেতরে পুঁজ জমে যাওয়ার কারণে তীব্র ব্যথা হয় এবং আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় সুই খোঁচানোর মতো ব্যথাও অনুভূত হয়।

কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের নিচে টিউমারজাতীয় গোটা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের গোটা সাধারণত শক্ত হয় এবং সহজে নাড়ানো যায় না। দ্রুত আকার বাড়লে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তবে সব টিউমারই বিপজ্জনক নয়। চর্বিযুক্ত কোষ দিয়ে তৈরি লাইপোমা নামের নিরীহ টিউমার বছরের পর বছর একই অবস্থায় থাকতে পারে এবং সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

ত্বকে যেকোনো ধরনের গোটা দেখা দিলে সেটি খোঁটা, চাপ দেওয়া বা সুই দিয়ে ফোটানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং সমস্যা জটিল হতে পারে। ত্বক পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত ফেসওয়াশ ব্যবহার এবং তেলযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলা ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

তবে যদি কোনো গোটা দ্রুত বড় হতে থাকে, ব্যথা বাড়ে, পুঁজ বের হয় বা দীর্ঘদিন ধরে না সারে, তাহলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ সমস্যাই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং ত্বকে স্থায়ী দাগ পড়ার ঝুঁকিও কমে যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্ক ফিন অ্যান্টেনা: জানুন এর চমকপ্রদ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ কাজ

ত্বকের গোটা ব্রণ, সিস্ট নাকি টিউমার? জেনে নিন

Update Time : ১১:৪০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

ত্বকের গোটা অনেকের কাছেই সাধারণ একটি সমস্যা মনে হলেও এর পেছনে ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। মুখ, ঘাড়, পিঠ কিংবা শরীরের অন্য যেকোনো স্থানে ছোট বা বড় গোটা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এটি সাধারণ ব্রণ, আবার কখনো সিস্ট, ফোড়া বা টিউমারজাতীয় সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই ত্বকে কোনো অস্বাভাবিক গোটা দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা না করে এর ধরন সম্পর্কে ধারণা রাখা জরুরি।

সবচেয়ে পরিচিত গোটাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রণ। সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ব্রণ দেখা দেয়। তবে শুধু কিশোর-কিশোরীদের নয়, ২০-২২ বছর বয়সের পরেও অনেকেই ব্রণের সমস্যায় ভোগেন। ব্রণের ক্ষেত্রে গোটার ওপর কালচে বা সাদাটে মুখ দেখা যেতে পারে এবং হালকা ব্যথা বা অস্বস্তিও অনুভূত হতে পারে। অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ, জীবাণুর সংক্রমণ এবং ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ হয়ে যাওয়াও এর কারণ হতে পারে।

অন্যদিকে, সিস্ট হলো ত্বকের নিচে তৈরি হওয়া তরলপূর্ণ একটি থলির মতো অংশ। এটি সাধারণত নরম অনুভূত হয় এবং ধীরে ধীরে বড় হতে পারে। অনেক সময় সিস্টের মুখ দিয়ে সাদাটে ক্রিমের মতো পদার্থ বের হতে দেখা যায়, যা পুঁজ নয়। তবে সংক্রমণ হলে সেখানে ব্যথা, লালচে ভাব ও পুঁজ তৈরি হতে পারে। সিস্ট ছোট থাকলে সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না, কিন্তু বড় হয়ে গেলে বা সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়।

ত্বকের গোটা
ত্বকের বিভিন্ন ধরনের গোটা

ত্বকের গোটার আরেকটি সাধারণ কারণ হলো ফোড়া। এটি মূলত জীবাণুর সংক্রমণের ফলে সৃষ্টি হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম ও ময়লা জমে ফোড়া হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ফোড়ার ভেতরে পুঁজ জমে যাওয়ার কারণে তীব্র ব্যথা হয় এবং আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় সুই খোঁচানোর মতো ব্যথাও অনুভূত হয়।

কিছু ক্ষেত্রে ত্বকের নিচে টিউমারজাতীয় গোটা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের গোটা সাধারণত শক্ত হয় এবং সহজে নাড়ানো যায় না। দ্রুত আকার বাড়লে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তবে সব টিউমারই বিপজ্জনক নয়। চর্বিযুক্ত কোষ দিয়ে তৈরি লাইপোমা নামের নিরীহ টিউমার বছরের পর বছর একই অবস্থায় থাকতে পারে এবং সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না।

ত্বকে যেকোনো ধরনের গোটা দেখা দিলে সেটি খোঁটা, চাপ দেওয়া বা সুই দিয়ে ফোটানোর চেষ্টা করা উচিত নয়। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং সমস্যা জটিল হতে পারে। ত্বক পরিষ্কার রাখা, নিয়মিত ফেসওয়াশ ব্যবহার এবং তেলযুক্ত প্রসাধনী এড়িয়ে চলা ব্রণ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

তবে যদি কোনো গোটা দ্রুত বড় হতে থাকে, ব্যথা বাড়ে, পুঁজ বের হয় বা দীর্ঘদিন ধরে না সারে, তাহলে অবশ্যই চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ সমস্যাই সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব এবং ত্বকে স্থায়ী দাগ পড়ার ঝুঁকিও কমে যায়।