ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এআই’র ‘বিপজ্জনক শক্তি’ বুঝতে পারছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোনদিকে যাচ্ছে বিশ্ব Logo সীমান্তে গুলির শব্দ থামলেও থামেনি আতঙ্ক—৪ দিন পর মিলল বাংলাদেশির নিথর দেহ Logo কান্না থামা, নাইলে মাইরা ফালামু’ বলে বাচ্চার মুখ চেপে ধরে হত্যার অভিযোগ Logo নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

লেবাননে ইসরাইলি হামলা: যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ১২:৫৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১৫

চিত্রঃ ইসরাইলি হামলা

লেবাননে ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়ে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইসরাইল।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও দেশজুড়ে শতাধিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে চাপের মুখে পড়েই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেল আবিব।
এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তারা লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়।
যুদ্ধ শুরুর পর এটিই লেবাননে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান বলে দাবি করা হয়েছে।
এই হামলায় আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দুই দিনে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৫৭ জন।
এছাড়া আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৮৩৭ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সরকার বলছে, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক।
এতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, হামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তার দাবি, শান্তিপূর্ণ জনগণের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় থাকলেও লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় রাখা হয়নি।
তার মতে, ইরানের প্রভাব কমানোই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন,
ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে বিরত রাখাই এখন অগ্রাধিকার।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে।
ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ইরান সরাসরি অভিযোগ করেছে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন,
এই ধরনের আক্রমণ চলমান আলোচনাকে অর্থহীন করে তুলছে।
তিনি কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন,
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য কঠোর মূল্য দিতে হবে।
তার মতে, লেবানন এই চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিশ্বজুড়ে এই হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইসরাইলের পদক্ষেপকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনসহ অনেক দেশ তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
তারা শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ হামলাকে ‘নির্বিচার’ বলে আখ্যা দেন।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এই পদক্ষেপকে ‘অসহনীয়’ বলেন।
ইতালিও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
রেড ক্রস ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তারা সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

মুসলিম বিশ্ব থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
কাতার এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছে।
তুরস্ক বলেছে, এই পদক্ষেপ বিশ্বশান্তির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
পাকিস্তান দাবি করেছে, লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রাশিয়া ও চীন লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন,
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সংযম জরুরি।
চীন লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।

ইসরাইলি হামলার জবাবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পাল্টা রকেট হামলা চালিয়েছে।
তারা উত্তর ইসরাইলের একটি বসতিকে লক্ষ্য করে হামলা করে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে।
এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইরান সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে।
তাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘অগ্নিঝড়’ আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি পুনরায় শুরু হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এখন অস্থির।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রত্যাশীরা এই আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে।

সব মিলিয়ে লেবাননে ইসরাইলি হামলা শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়,
বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতির নতুন অধ্যায়।
যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই’র ‘বিপজ্জনক শক্তি’ বুঝতে পারছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কোনদিকে যাচ্ছে বিশ্ব

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা, বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া

লেবাননে ইসরাইলি হামলা: যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ

Update Time : ১২:৫৯:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

লেবাননে ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়ে নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে ইসরাইল।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও দেশজুড়ে শতাধিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে চাপের মুখে পড়েই এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেল আবিব।
এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইসরাইল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তারা লেবাননের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়।
যুদ্ধ শুরুর পর এটিই লেবাননে তাদের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান বলে দাবি করা হয়েছে।
এই হামলায় আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দুই দিনে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪৫৭ জন।
এছাড়া আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৮৩৭ জন, যাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সরকার বলছে, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক।
এতে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম অভিযোগ করেছেন, হামলাগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তার দাবি, শান্তিপূর্ণ জনগণের ওপর নির্বিচারে হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ পরিস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় থাকলেও লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় রাখা হয়নি।
তার মতে, ইরানের প্রভাব কমানোই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য।
এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নীতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন,
ইরানকে পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে বিরত রাখাই এখন অগ্রাধিকার।
তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও উসকে দিচ্ছে।
ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।

ইরান সরাসরি অভিযোগ করেছে, এই হামলা যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন,
এই ধরনের আক্রমণ চলমান আলোচনাকে অর্থহীন করে তুলছে।
তিনি কঠোর প্রতিক্রিয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন,
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য কঠোর মূল্য দিতে হবে।
তার মতে, লেবানন এই চুক্তির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
এই মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিশ্বজুড়ে এই হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ইসরাইলের পদক্ষেপকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে।
ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনসহ অনেক দেশ তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
তারা শান্তি প্রক্রিয়া পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ হামলাকে ‘নির্বিচার’ বলে আখ্যা দেন।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এই পদক্ষেপকে ‘অসহনীয়’ বলেন।
ইতালিও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন।
রেড ক্রস ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
তারা সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে।

মুসলিম বিশ্ব থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
কাতার এই হামলাকে ‘গণহত্যা’ বলে বর্ণনা করেছে।
তুরস্ক বলেছে, এই পদক্ষেপ বিশ্বশান্তির প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
পাকিস্তান দাবি করেছে, লেবাননও যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রাশিয়া ও চীন লেবাননকে যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন,
শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব পক্ষের সংযম জরুরি।
চীন লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে।

ইসরাইলি হামলার জবাবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ পাল্টা রকেট হামলা চালিয়েছে।
তারা উত্তর ইসরাইলের একটি বসতিকে লক্ষ্য করে হামলা করে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরোধ চলবে।
এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইরান সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে।
তাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ‘অগ্নিঝড়’ আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দুর্নীতি মামলার শুনানি পুনরায় শুরু হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিও এখন অস্থির।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রত্যাশীরা এই আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে।

সব মিলিয়ে লেবাননে ইসরাইলি হামলা শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়,
বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূরাজনীতির নতুন অধ্যায়।
যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।