ঢাকা ১১:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৯ হাজার কিমি পাড়ি, ২২ টি ম্যাচ মাঠে দেখলেন ফিফা সভাপতি

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মাঝেও একের পর এক স্টেডিয়ামে ছুটে বেড়াচ্ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রতিদিন যত বেশি সম্ভব ম্যাচ মাঠে বসে দেখার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ১৪ দিনে প্রায় ৩৯ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তিন আয়োজক দেশ ঘুরে ২২টি ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে যতটা সম্ভব ম্যাচ মাঠে উপস্থিত থেকে দেখবেন। তার পরিকল্পনা ছিল প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ দেখা। তবে দীর্ঘ ভ্রমণ ও ব্যস্ত সূচির কারণে প্রতিদিন সেই লক্ষ্য পূরণ করা সবসময় সম্ভব হয়নি।

তবুও বিশ্বকাপের প্রথম দুই সপ্তাহে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত তিনি অন্তত ১২টি ভিন্ন স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ দেখেছেন। প্রাইভেট জেট ব্যবহারের সুবিধা থাকায় অনেক দিনই এক শহর থেকে আরেক শহরে দ্রুত পৌঁছে দুইটি ম্যাচ উপভোগ করতে পেরেছেন।

গত ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে তার বিশ্বকাপ সফর শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ শেষে সেদিনই তিনি প্রায় ২৯৫ মাইল ভ্রমণ করে গুয়াদালাজারায় যান। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচও মাঠে বসে দেখেন।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বজুড়ে ইনফান্তিনোর সফর ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। কখনও স্যান ফ্র্যান্সিসকো, কখনও লস অ্যাঞ্জেলস, আবার কখনও কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। প্রতিটি সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখা।

বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে উপস্থিত হয়ে তিনি শুধু ম্যাচই দেখেননি, আয়োজক শহরগুলোর কার্যক্রমও পরিদর্শন করেছেন। বিভিন্ন স্টেডিয়ামের পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শকদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিয়েছেন ফিফার এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

সবশেষ তিনি মায়ামির স্টেডিয়ামে বসে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচ উপভোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত নিজের ভ্রমণের ছবি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডেও আলোচনায় রয়েছেন ফিফা সভাপতি।

তার এই দীর্ঘ সফরের সবচেয়ে বড় ভ্রমণটি হয় ১৯ জুন। সেদিন আজতেকা স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার ম্যাচ দেখার পর তিনি প্রায় ২ হাজার ৪৫৮ মাইল উড়ে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছান। সেখানে কানাডা ও কাতারের মধ্যকার ম্যাচ সরাসরি দেখেন।

এরপরও থেমে থাকেননি ইনফান্তিনো। ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ৪ হাজার ৪২ মাইল উড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বস্টোনে যান। সেখানে উপস্থিত থেকে স্কটল্যান্ড ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচ উপভোগ করেন। এক শহর থেকে আরেক শহরে এমন দ্রুত যাতায়াত বিশ্বকাপজুড়ে তার ব্যস্ততারই প্রতিচ্ছবি।

বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়নি, তাই ইনফান্তিনোর এই ভ্রমণও থামার সুযোগ নেই। টুর্নামেন্ট যত এগোবে, ততই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার উপস্থিতি দেখা যাবে। ফিফা সভাপতির এই সফর শুধু ম্যাচ দেখা নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আয়োজন ও পরিবেশকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৯ হাজার কিমি পাড়ি, ২২ টি ম্যাচ মাঠে দেখলেন ফিফা সভাপতি

Update Time : ০৮:৩২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মাঝেও একের পর এক স্টেডিয়ামে ছুটে বেড়াচ্ছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। প্রতিদিন যত বেশি সম্ভব ম্যাচ মাঠে বসে দেখার লক্ষ্য নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে ১৪ দিনে প্রায় ৩৯ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে তিন আয়োজক দেশ ঘুরে ২২টি ম্যাচ সরাসরি উপভোগ করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোজুড়ে যতটা সম্ভব ম্যাচ মাঠে উপস্থিত থেকে দেখবেন। তার পরিকল্পনা ছিল প্রতিদিন দুটি করে ম্যাচ দেখা। তবে দীর্ঘ ভ্রমণ ও ব্যস্ত সূচির কারণে প্রতিদিন সেই লক্ষ্য পূরণ করা সবসময় সম্ভব হয়নি।

তবুও বিশ্বকাপের প্রথম দুই সপ্তাহে তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত তিনি অন্তত ১২টি ভিন্ন স্টেডিয়ামে গিয়ে ম্যাচ দেখেছেন। প্রাইভেট জেট ব্যবহারের সুবিধা থাকায় অনেক দিনই এক শহর থেকে আরেক শহরে দ্রুত পৌঁছে দুইটি ম্যাচ উপভোগ করতে পেরেছেন।

আরও পড়ুন  প্রিমিয়ার লিগে নতুন নিয়ম: চুল টানলেই আর লাল কার্ড নয়

গত ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে তার বিশ্বকাপ সফর শুরু হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ শেষে সেদিনই তিনি প্রায় ২৯৫ মাইল ভ্রমণ করে গুয়াদালাজারায় যান। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচও মাঠে বসে দেখেন।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বজুড়ে ইনফান্তিনোর সফর ছিল অত্যন্ত ব্যস্ত। কখনও স্যান ফ্র্যান্সিসকো, কখনও লস অ্যাঞ্জেলস, আবার কখনও কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে উপস্থিত হয়েছেন তিনি। প্রতিটি সফরের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপ আয়োজনের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং দর্শকদের অভিজ্ঞতা কাছ থেকে দেখা।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের আগে মার্তিনেজকে ঘিরে দুশ্চিন্তা, কী হবে আর্জেন্টিনার?

বিশ্বকাপের বিভিন্ন ভেন্যুতে উপস্থিত হয়ে তিনি শুধু ম্যাচই দেখেননি, আয়োজক শহরগুলোর কার্যক্রমও পরিদর্শন করেছেন। বিভিন্ন স্টেডিয়ামের পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দর্শকদের অংশগ্রহণ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নিয়েছেন ফিফার এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

সবশেষ তিনি মায়ামির স্টেডিয়ামে বসে ব্রাজিল ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচ উপভোগ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিয়মিত নিজের ভ্রমণের ছবি ও অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছেন তিনি। ফলে বিশ্বকাপের মাঠের বাইরের কর্মকাণ্ডেও আলোচনায় রয়েছেন ফিফা সভাপতি।

তার এই দীর্ঘ সফরের সবচেয়ে বড় ভ্রমণটি হয় ১৯ জুন। সেদিন আজতেকা স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার ম্যাচ দেখার পর তিনি প্রায় ২ হাজার ৪৫৮ মাইল উড়ে কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে পৌঁছান। সেখানে কানাডা ও কাতারের মধ্যকার ম্যাচ সরাসরি দেখেন।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপ কি ফিফার, নাকি ট্রাম্পের?

এরপরও থেমে থাকেননি ইনফান্তিনো। ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ৪ হাজার ৪২ মাইল উড়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বস্টোনে যান। সেখানে উপস্থিত থেকে স্কটল্যান্ড ও মরক্কোর মধ্যকার ম্যাচ উপভোগ করেন। এক শহর থেকে আরেক শহরে এমন দ্রুত যাতায়াত বিশ্বকাপজুড়ে তার ব্যস্ততারই প্রতিচ্ছবি।

বিশ্বকাপ এখনও শেষ হয়নি, তাই ইনফান্তিনোর এই ভ্রমণও থামার সুযোগ নেই। টুর্নামেন্ট যত এগোবে, ততই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে তার উপস্থিতি দেখা যাবে। ফিফা সভাপতির এই সফর শুধু ম্যাচ দেখা নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরের আয়োজন ও পরিবেশকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের একটি বিশেষ উদ্যোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।