জাপানের সামনে আবারও বিশ্বকাপের ইতিহাস গড়ার সুযোগ। তবে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে হলে এবার তাদের টপকাতে হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। কঠিন এই চ্যালেঞ্জের আগে জাপান কোচ হাজিমে মরিয়াসু জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও তাঁর দল জয়ের আশা নিয়েই মাঠে নামবে।
‘এফ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুইডেনের সঙ্গে ১–১ গোলে ড্র করে রাউন্ড অব থার্টি টু নিশ্চিত করেছে জাপান। এই ফলের পরই চূড়ান্ত হয় নকআউট পর্বের সূচি। সেখানে ‘সি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মুখোমুখি হবে এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ সময় ২৯ জুন রাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারা জাপানের জন্য এটি হতে যাচ্ছে আরেকটি বড় পরীক্ষা। তবে দলের সামর্থ্য নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী কোচ মরিয়াসু।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিলকে নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মরিয়াসু বলেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলাটা সব সময়ই বিশেষ অভিজ্ঞতা। তবে শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নয়, জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে তাঁর দল।
জাপান কোচ বলেন, “এটি একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে। ব্রাজিল নিখুঁত একটি দল। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, আমাদেরও জেতার এবং পরের ধাপে যাওয়ার সুযোগ আছে। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাই এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
নিজেদের আত্মবিশ্বাসের বড় কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক এক প্রীতি ম্যাচের কথাও মনে করিয়ে দেন মরিয়াসু। গত অক্টোবরে টোকিওতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩–১ গোলে হারিয়েছিল জাপান। সেই জয় খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।
তবে সেই ফল এবার উল্টো ব্রাজিলকে আরও সতর্ক করে তুলতে পারে বলেও বিশ্বাস জাপান কোচের। তাঁর মতে, আগের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আরও বেশি মনোযোগী হয়ে মাঠে নামবে দক্ষিণ আমেরিকার শক্তিধর দলটি।
মরিয়াসু বলেন, “ব্রাজিলের বিপক্ষে সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচটিতে আমরা জিতেছিলাম। হয়তো সেই কারণেই ওরা এবার আমাদের বিপক্ষে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হয়ে খেলবে। আমি এই ম্যাচটির অপেক্ষায় আছি।”
একসময় জাপানের বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়কে প্রায় নিশ্চিত বলেই ধরা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে জাপানি ফুটবলের ধারাবাহিক উন্নতির কারণে সেই চিত্র বদলেছে বলে মনে করেন মরিয়াসু। তাঁর মতে, এখন বড় দলগুলোও জাপানকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ পায় না।
তিনি বলেন, “প্রীতি ম্যাচে আমরা প্রমাণ করেছি, আমাদের হারানো এখন আর সহজ নয়। এটি আমাদের বড় অগ্রগতি। ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল, আমরা তাদের সম্মান করি। তবে ম্যাচে কী ঘটবে, তা আগে থেকে কেউ বলতে পারে না। আমাদেরও জেতার সমান সুযোগ থাকবে।”
বিশ্বকাপে জাপানের সেরা সাফল্য এখন পর্যন্ত শেষ ষোলোতে ওঠা। এবার সেই সীমা ভেঙে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে দলটি। অন্যদিকে ব্রাজিলও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে চাইবে।
সব মিলিয়ে ২৯ জুনের এই লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে অভিজ্ঞতা ও ঐতিহ্যের বিপরীতে আত্মবিশ্বাস ও নতুন সম্ভাবনা। ব্রাজিল কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও মরিয়াসুর বিশ্বাস, ফুটবলে শেষ কথা মাঠেই লেখা হয়। তাই বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় নকআউট ম্যাচে চমকের অপেক্ষায় থাকছেন জাপানিরা।
























