ঢাকা ০২:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হজ শেষে ফিরেছেন ৭৩০৭৬ বাংলাদেশি

হজ শেষে দেশে ফেরার ধারাবাহিক কার্যক্রম চলছে। ছবি: সংগৃহীত

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৭৩ হাজার ৭৬ জন বাংলাদেশি হাজি। পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরতি ফ্লাইটে ধারাবাহিকভাবে দেশে ফিরছেন হাজিরা। এখন পর্যন্ত ফিরতি কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে চললেও এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হাজি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৭৬ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। তারা মোট ১৮৮টি ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

এ বছর হজে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে এক লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সৌদি আরবে যান। হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস নির্ধারিত সূচি অনুসারে ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

ফিরে আসা হাজিদের বেশিরভাগই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন। এছাড়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কিছু হাজি চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিমানবন্দরেও পৌঁছাচ্ছেন। বিমানবন্দরে স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুনর্মিলনের আবেগঘন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত অবশিষ্ট হাজিদেরও ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিরতি ফ্লাইট চলবে। হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

হজ শেষে দেশে ফেরার পর অনেক হাজি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এবারের হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় আরও উন্নত ছিল। মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় প্রয়োজনীয় সেবা, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তারা জানান।

তবে কিছু হাজি অতিরিক্ত গরম ও দীর্ঘ হাঁটার কারণে শারীরিক ক্লান্তির কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে বয়স্ক হাজিদের জন্য প্রচণ্ড তাপমাত্রা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এরপরও অধিকাংশ হাজি সফলভাবে হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হজ মৌসুমজুড়ে বাংলাদেশি হাজিদের সহায়তায় মক্কা, মদিনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মেডিকেল টিম, হজ অফিস ও স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করেছে। হারিয়ে যাওয়া হাজিদের খুঁজে বের করা, চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে এসব টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ফিরতি ফ্লাইট চলাকালে হাজিদের লাগেজ, ইমিগ্রেশন এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করায় যাত্রীদের ভোগান্তি তুলনামূলক কম হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে যেসব হাজি এখনও সৌদি আরবে রয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। প্রত্যেক ফ্লাইটের সময়সূচি আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সি ও বিমান সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে হাজিরা নির্ধারিত সময়েই বিমানবন্দরে পৌঁছে ফিরতি যাত্রা সম্পন্ন করতে পারছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনলাইন তথ্যসেবা বাড়ানোর ফলে এবার যাত্রীদের বিভিন্ন জটিলতা অনেকটাই কমেছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং, ফ্লাইট আপডেট এবং তথ্যভিত্তিক সমন্বয় ব্যবস্থার কারণে ফিরতি কার্যক্রম আরও সহজ হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরা নির্বিঘ্নভাবে চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৩ হাজার ৭৬ জন হাজি দেশে ফিরেছেন এবং অবশিষ্ট হাজিদেরও পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফিরতি হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

হজ শেষে ফিরেছেন ৭৩০৭৬ বাংলাদেশি

Update Time : ০৯:২৬:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

হজ শেষে দেশে ফিরেছেন ৭৩ হাজার ৭৬ জন বাংলাদেশি হাজি। পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে ফিরতি ফ্লাইটে ধারাবাহিকভাবে দেশে ফিরছেন হাজিরা। এখন পর্যন্ত ফিরতি কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে চললেও এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হাজি সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৭৬ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। তারা মোট ১৮৮টি ফিরতি ফ্লাইটে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজিদের ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।

এ বছর হজে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে এক লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসল্লি সৌদি আরবে যান। হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স ও ফ্লাইনাস নির্ধারিত সূচি অনুসারে ফিরতি ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন  হজ শেষে ফিরলেন আরো ১১০৯ বাংলাদেশি

ফিরে আসা হাজিদের বেশিরভাগই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করছেন। এছাড়া নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কিছু হাজি চট্টগ্রাম ও সিলেটের বিমানবন্দরেও পৌঁছাচ্ছেন। বিমানবন্দরে স্বজনদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পুনর্মিলনের আবেগঘন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবে অবস্থানরত অবশিষ্ট হাজিদেরও ধাপে ধাপে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে ফিরতি ফ্লাইট চলবে। হজযাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

হজ শেষে দেশে ফেরার পর অনেক হাজি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, এবারের হজের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আগের তুলনায় আরও উন্নত ছিল। মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফায় প্রয়োজনীয় সেবা, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে তারা জানান।

আরও পড়ুন  হজ শেষে ফিরেছেন ৭৩০৭৬ বাংলাদেশি

তবে কিছু হাজি অতিরিক্ত গরম ও দীর্ঘ হাঁটার কারণে শারীরিক ক্লান্তির কথা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে বয়স্ক হাজিদের জন্য প্রচণ্ড তাপমাত্রা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। এরপরও অধিকাংশ হাজি সফলভাবে হজের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হজ মৌসুমজুড়ে বাংলাদেশি হাজিদের সহায়তায় মক্কা, মদিনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মেডিকেল টিম, হজ অফিস ও স্বেচ্ছাসেবক দল দায়িত্ব পালন করেছে। হারিয়ে যাওয়া হাজিদের খুঁজে বের করা, চিকিৎসাসেবা দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে এসব টিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ফিরতি ফ্লাইট চলাকালে হাজিদের লাগেজ, ইমিগ্রেশন এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিমানবন্দরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করায় যাত্রীদের ভোগান্তি তুলনামূলক কম হয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  সন্তানদের দানেও ইনসাফ জরুরি: ইসলামের ন্যায়বিচারের শিক্ষা

এদিকে যেসব হাজি এখনও সৌদি আরবে রয়েছেন, তারা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে দেশে ফিরবেন। প্রত্যেক ফ্লাইটের সময়সূচি আগে থেকেই সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সি ও বিমান সংস্থাগুলোর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে হাজিরা নির্ধারিত সময়েই বিমানবন্দরে পৌঁছে ফিরতি যাত্রা সম্পন্ন করতে পারছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হজ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার এবং অনলাইন তথ্যসেবা বাড়ানোর ফলে এবার যাত্রীদের বিভিন্ন জটিলতা অনেকটাই কমেছে। ডিজিটাল ট্র্যাকিং, ফ্লাইট আপডেট এবং তথ্যভিত্তিক সমন্বয় ব্যবস্থার কারণে ফিরতি কার্যক্রম আরও সহজ হয়েছে।

সব মিলিয়ে, পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজিদের দেশে ফেরা নির্বিঘ্নভাবে চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৩ হাজার ৭৬ জন হাজি দেশে ফিরেছেন এবং অবশিষ্ট হাজিদেরও পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফিরতি হজ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হবে।