বাংলাদেশি হাজি প্রত্যাবর্তনের চূড়ান্ত পর্যায় সম্পন্ন করতে রোববার পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ২০৪টি বিশেষ ফিরতি ফ্লাইট ঢাকায় এসে পৌঁছেছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় এখন পর্যন্ত সর্বমোট ৭৩ হাজার ৭৬ জন সম্মানিত হজযাত্রী নির্বিঘ্নে স্বদেশে পদার্পণ করেছেন। বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাদেশ হজ মিশন এর অফিশিয়াল পোর্টাল ভিজিট করতে পারেন।
চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে মক্কা, মদিনা ও জেদ্দায় সর্বমোট ৫৫ জন ডেডিকেটেড বাংলাদেশি হাজি ইন্তেকাল করেছেন, তবে মিনা বা মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এই শোকাবহ পরিস্থিতির মাঝেও সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশেষায়িত মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রায় ৬৭ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী বিনামূল্যে জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেছেন।
ফ্লাইটভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সর্বোচ্চ ১০৮টি ফ্লাইটে ৩৩ হাজার ৪৮৮ জন বাংলাদেশি হাজি সফলভাবে পরিবহন করেছে। পাশাপাশি সৌদিয়া এয়ারলাইনস ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস যথাক্রমে ৬৯টি ও ২৭টি ফ্লাইটের মাধ্যমে বাকি হাজিদের নিরাপদে ফিরিয়ে এনেছে। এ বিষয়ে আরও জানতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর নিয়মিত নোটিশ বোর্ড দেখতে পারেন।
সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় স্থাপিত আইটি হেল্প ডেস্কগুলো আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় ২৮ হাজার ৪৪৩ জন বাংলাদেশি হাজি-কে হারিয়ে যাওয়া লাগেজ উদ্ধারসহ বিভিন্ন তথ্য দিয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা ৭ জন অসুস্থ হজযাত্রী ছাড়া বাকিরা সবাই সুস্থ শরীরে দেশে ফিরছেন।
গত ১৮ এপ্রিল প্রথম ঐতিহাসিক প্রাক-হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে এবারের হজ যাত্রা শুরু হয়েছিল এবং ২৬ মে মূল হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিরতি ফ্লাইট চালু করা হয়। নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী এবার বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর পবিত্র মক্কা নগরীতে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল।
সংশ্লিষ্ট হজ অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, অবশিষ্ট সমস্ত বাংলাদেশি হাজি আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের নির্ধারিত ফ্লাইটে দেশে ফিরে আসবেন। হজের এই পুরো অপারেশনটি সফল করতে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকার যৌথভাবে কাজ করেছে। আমাদের পূর্ববর্তী হজ গাইড ও প্রস্তুতি সম্পর্কিত নিবন্ধটি পড়তে পারেন।

























