ঢাকা ০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তেলাপিয়া মাছ কি ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

দূষিত তেলাপিয়া হতে পারে নীরব স্বাস্থ্যঝুঁকি।

মাছ স্বাস্থ্যকর খাবারের অন্যতম উৎস হলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চাষ করা কিছু তেলাপিয়া মাছ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দূষিত জলাশয় বা নিম্নমানের খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া মাছের শরীরে আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক জমতে পারে। দীর্ঘদিন এসব মাছ খেলে ক্যানসার, হৃদরোগ, অ্যালার্জি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে উল্লেখ্য, এই ঝুঁকি সব তেলাপিয়া মাছের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; মূলত দূষিত বা নিম্নমানের খামারে উৎপাদিত মাছের ক্ষেত্রেই এ ধরনের আশঙ্কা বেশি।

কেন তেলাপিয়া মাছ নিয়ে উদ্বেগ?

মাছে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ডি ও বি১২, আয়োডিন এবং ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। নিয়মিত মাছ খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখা, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হাড় শক্ত রাখতে সহায়ক।

তবে গবেষকদের মতে, কিছু খামারে তেলাপিয়া মাছ দ্রুত বড় করার জন্য নিম্নমানের খাদ্য ও অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মাছের শরীরে ক্ষতিকর উপাদান জমে যেতে পারে।

গবেষণায় কী তথ্য উঠে এসেছে?

‘জার্নাল অব ইমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড ইনোভেটিভ রিসার্চ’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দূষিত পরিবেশে চাষ করা তেলাপিয়া মাছের শরীরে বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় যেসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে—

  • আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি হতে পারে।
  • দীর্ঘদিন এসব মাছ খেলে শরীরে ভারী ধাতু জমতে পারে।
  • এতে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রেরও ক্ষতি হতে পারে।

কীভাবে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খামারের তেলাপিয়া মাছের পুষ্টিগুণ তুলনামূলক কম হতে পারে। আবার এতে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকলে শরীরে প্রদাহের প্রবণতা বাড়তে পারে।

এর ফলে—

  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
  • হাঁপানি ও প্রদাহজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ে কী বলছেন গবেষকরা?

কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, নিম্নমানের খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া মাছের শরীরে ডাইঅক্সিনসহ কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব তথ্য সব খামার বা সব দেশের তেলাপিয়া উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। নিরাপদ ও মানসম্মত খামারে উৎপাদিত মাছের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি অনেকটাই কম।

নিরাপদে তেলাপিয়া মাছ খাওয়ার উপায়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

  • বিশ্বস্ত ও পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে মাছ কিনুন।
  • দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাছ এড়িয়ে চলুন।
  • ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করুন।
  • একই ধরনের মাছ নিয়মিত না খেয়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ খাদ্যতালিকায় রাখুন।
  • সম্ভব হলে নিরাপদ ও মানসম্মত খামারের মাছ বেছে নিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলাপিয়া মাছ নিজেই ক্ষতিকর নয়। বরং কোন পরিবেশে এবং কীভাবে মাছটি চাষ করা হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উৎস থেকে মাছ কেনা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

জনপ্রিয় সংবাদ

তেলাপিয়া মাছ কি ক্যানসার ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়?

Update Time : ০৩:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

মাছ স্বাস্থ্যকর খাবারের অন্যতম উৎস হলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চাষ করা কিছু তেলাপিয়া মাছ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা। বিভিন্ন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, দূষিত জলাশয় বা নিম্নমানের খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া মাছের শরীরে আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক জমতে পারে। দীর্ঘদিন এসব মাছ খেলে ক্যানসার, হৃদরোগ, অ্যালার্জি ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে উল্লেখ্য, এই ঝুঁকি সব তেলাপিয়া মাছের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; মূলত দূষিত বা নিম্নমানের খামারে উৎপাদিত মাছের ক্ষেত্রেই এ ধরনের আশঙ্কা বেশি।

কেন তেলাপিয়া মাছ নিয়ে উদ্বেগ?

মাছে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন এ, ডি ও বি১২, আয়োডিন এবং ক্যালসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। নিয়মিত মাছ খাওয়া হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখা, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং হাড় শক্ত রাখতে সহায়ক।

আরও পড়ুন  শক্তিশালী অভ্যাসে একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তির উপায় হলো বই পড়া

তবে গবেষকদের মতে, কিছু খামারে তেলাপিয়া মাছ দ্রুত বড় করার জন্য নিম্নমানের খাদ্য ও অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এর ফলে মাছের শরীরে ক্ষতিকর উপাদান জমে যেতে পারে।

গবেষণায় কী তথ্য উঠে এসেছে?

‘জার্নাল অব ইমার্জিং টেকনোলজিস অ্যান্ড ইনোভেটিভ রিসার্চ’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দূষিত পরিবেশে চাষ করা তেলাপিয়া মাছের শরীরে বিভিন্ন ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় যেসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে—

  • আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামের মাত্রা নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি হতে পারে।
  • দীর্ঘদিন এসব মাছ খেলে শরীরে ভারী ধাতু জমতে পারে।
  • এতে ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
  • কিডনি, লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রেরও ক্ষতি হতে পারে।
আরও পড়ুন  ঘরের তেলাপোকা ডেকে আনতে পারে প্রাণঘাতী স্বাস্থ্যঝুঁকি

কীভাবে বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খামারের তেলাপিয়া মাছের পুষ্টিগুণ তুলনামূলক কম হতে পারে। আবার এতে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকলে শরীরে প্রদাহের প্রবণতা বাড়তে পারে।

এর ফলে—

  • উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
  • হাঁপানি ও প্রদাহজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ক্ষতিকর রাসায়নিক নিয়ে কী বলছেন গবেষকরা?

কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, নিম্নমানের খামারে উৎপাদিত তেলাপিয়া মাছের শরীরে ডাইঅক্সিনসহ কিছু ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ও কীটনাশক ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব তথ্য সব খামার বা সব দেশের তেলাপিয়া উৎপাদনের ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। নিরাপদ ও মানসম্মত খামারে উৎপাদিত মাছের ক্ষেত্রে এমন ঝুঁকি অনেকটাই কম।

আরও পড়ুন  আলু বেশি খেলে হতে পারে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিরাপদে তেলাপিয়া মাছ খাওয়ার উপায়

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—

  • বিশ্বস্ত ও পরিচ্ছন্ন উৎস থেকে মাছ কিনুন।
  • দুর্গন্ধযুক্ত বা অস্বাভাবিক রঙের মাছ এড়িয়ে চলুন।
  • ভালোভাবে পরিষ্কার করে পর্যাপ্ত তাপে রান্না করুন।
  • একই ধরনের মাছ নিয়মিত না খেয়ে বিভিন্ন ধরনের মাছ খাদ্যতালিকায় রাখুন।
  • সম্ভব হলে নিরাপদ ও মানসম্মত খামারের মাছ বেছে নিন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলাপিয়া মাছ নিজেই ক্ষতিকর নয়। বরং কোন পরিবেশে এবং কীভাবে মাছটি চাষ করা হয়েছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ উৎস থেকে মাছ কেনা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।