ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এনসিপির কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত Logo বাংলাদেশের পাসপোর্ট আরও দুর্বল, উগান্ডাও এখন অনেক এগিয়ে Logo বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে সুখবর, বেড়ে ছাড়াল ৩৬.৪৬ বিলিয়ন ডলার Logo শিশুদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে কার্যকর হতে পারে জিএলপি-১ ইনজেকশন Logo ভেজানো কিশমিশে উপকারিতা: প্রতিদিন খেলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়? Logo ট্রাম্পের চুক্তিতে সৌদির পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন Logo হিটলারের জন্মবাড়িতে এবার থানা, কেন নিল অস্ট্রিয়ার এই সিদ্ধান্ত? Logo অরিজিৎ সিং ফিরলেন: ‘আওয়ারাপন ২’-এর নতুন গানে আবেগঘন প্রত্যাবর্তন Logo আনারস খেলে কী উপকার? জানুন ১০টি চমকপ্রদ স্বাস্থ্যগুণ Logo হাজিরা দিতে এসে জালনোটসহ ধরা পড়লেন মামলার আসামি

আনারস খেলে কী উপকার? জানুন ১০টি চমকপ্রদ স্বাস্থ্যগুণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৩

আনারস শুধু সুস্বাদু নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে হজমে সহায়তা—জানুন এর চমকপ্রদ উপকারিতা।

আনারস শুধু সুস্বাদু একটি গ্রীষ্মকালীন ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আনারস খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হজম, ত্বক ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন এক কাপ পরিমাণ তাজা আনারস শরীরের জন্য নানা দিক থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আনারসে রয়েছে থিয়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি-৬, ফোলেট, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। এছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও বিটা ক্যারোটিন, যা শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। ফলে এটি একটি সম্পূর্ণ পুষ্টিকর ফল হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভিটামিন সি-এর অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে আনারসের গুরুত্ব অনেক। সাধারণত কমলালেবুকে ভিটামিন সি-এর প্রধান উৎস মনে করা হলেও আনারসও সমানভাবে এই পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং মৌসুমি সর্দি-কাশি ও জ্বর থেকে শরীরকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

আনারসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। এটি কোষের ক্ষয় কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের কোষকে সুরক্ষা দিয়ে তারুণ্য ধরে রাখতেও আনারস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হজমের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আনারস উপকারী হতে পারে। এতে থাকা ব্রোমেলিন নামের বিশেষ এনজাইম প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে, ফলে খাবার সহজে হজম হয়। একই সঙ্গে এটি গ্যাস, বদহজম এবং হালকা প্রদাহ কমাতেও কার্যকর বলে মনে করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আনারসে থাকা বিটা ক্যারোটিন শ্বাসতন্ত্রের সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এটি অ্যাস্থমার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া ভিটামিন সি, জিঙ্ক, কপার ও ফোলেট নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং সন্তান ধারণের পরিকল্পনায় থাকা দম্পতিদের জন্যও এটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও আনারসের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে। এতে থাকা ব্রোমেলিন রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। অতীতে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত দ্রুত সারানোর ক্ষেত্রেও আনারস ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ত্বকের জন্য আনারস অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। এতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষয় রোধ করে এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ফলে নিয়মিত পরিমিত আনারস খাওয়া ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।

যারা ওজন কমাতে চান, তাদের খাদ্যতালিকায়ও আনারস রাখা যেতে পারে। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। স্মুদি, ফলের সালাদ বা সকালের নাশতায় আনারস যোগ করলে তা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত আনারস না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে এর পুষ্টিগুণের সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপির কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আনারস খেলে কী উপকার? জানুন ১০টি চমকপ্রদ স্বাস্থ্যগুণ

Update Time : ১১:৩৩:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

আনারস শুধু সুস্বাদু একটি গ্রীষ্মকালীন ফলই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে আনারস খেলে শরীর প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পায়, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি হজম, ত্বক ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন এক কাপ পরিমাণ তাজা আনারস শরীরের জন্য নানা দিক থেকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

আনারসে রয়েছে থিয়ামিন, রাইবোফ্লাভিন, ভিটামিন বি-৬, ফোলেট, প্যান্টোথেনিক অ্যাসিড, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম এবং প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি। এছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, পলিফেনল ও বিটা ক্যারোটিন, যা শরীরকে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। ফলে এটি একটি সম্পূর্ণ পুষ্টিকর ফল হিসেবে বিবেচিত হয়।

ভিটামিন সি-এর অন্যতম ভালো উৎস হিসেবে আনারসের গুরুত্ব অনেক। সাধারণত কমলালেবুকে ভিটামিন সি-এর প্রধান উৎস মনে করা হলেও আনারসও সমানভাবে এই পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং মৌসুমি সর্দি-কাশি ও জ্বর থেকে শরীরকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

আনারসে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়সজনিত বিভিন্ন সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। এটি কোষের ক্ষয় কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ বার্ধক্য নিশ্চিত করতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ত্বকের কোষকে সুরক্ষা দিয়ে তারুণ্য ধরে রাখতেও আনারস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হজমের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্যও আনারস উপকারী হতে পারে। এতে থাকা ব্রোমেলিন নামের বিশেষ এনজাইম প্রোটিন ভাঙতে সাহায্য করে, ফলে খাবার সহজে হজম হয়। একই সঙ্গে এটি গ্যাস, বদহজম এবং হালকা প্রদাহ কমাতেও কার্যকর বলে মনে করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আনারসে থাকা বিটা ক্যারোটিন শ্বাসতন্ত্রের সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এটি অ্যাস্থমার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। এছাড়া ভিটামিন সি, জিঙ্ক, কপার ও ফোলেট নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং সন্তান ধারণের পরিকল্পনায় থাকা দম্পতিদের জন্যও এটি উপকারী খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও আনারসের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গেছে। এতে থাকা ব্রোমেলিন রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। অতীতে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের পর ক্ষত দ্রুত সারানোর ক্ষেত্রেও আনারস ব্যবহারের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ত্বকের জন্য আনারস অত্যন্ত উপকারী একটি ফল। এতে থাকা ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে। পাশাপাশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ক্ষয় রোধ করে এবং উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। ফলে নিয়মিত পরিমিত আনারস খাওয়া ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্যও ভালো।

যারা ওজন কমাতে চান, তাদের খাদ্যতালিকায়ও আনারস রাখা যেতে পারে। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়। স্মুদি, ফলের সালাদ বা সকালের নাশতায় আনারস যোগ করলে তা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত আনারস না খেয়ে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা, যাতে এর পুষ্টিগুণের সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়।