ফাহিমের পদযাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প। ‘কালো ধোঁয়া আর নয়, হেঁটেই করব দূরত্ব জয়’—এই বার্তা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তরুণ ফাহিম মুনতাসির টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার উদ্দেশে হাঁটছেন। তাঁর লক্ষ্য শুধু দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া নয়, বরং মানুষকে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাসে উদ্বুদ্ধ করা এবং পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরা।
প্রায় এক হাজার কিলোমিটারের এই যাত্রা শুরু হয় ১০ জুলাই টেকনাফ থেকে। ইতোমধ্যে তিনি কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, সাভার ও টাঙ্গাইলসহ বিভিন্ন জেলা অতিক্রম করেছেন। প্রতিদিন কয়েকটি স্থানে থেমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে হাঁটার উপকারিতা, সুস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কথা বলছেন।
ফাহিম জানান, একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার কদম হাঁটা প্রয়োজন। কিন্তু আধুনিক জীবনযাত্রায় মানুষ ক্রমেই যানবাহনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এতে যেমন শারীরিক সক্রিয়তা কমছে, তেমনি বাড়ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। তাঁর বিশ্বাস, হাঁটার অভ্যাস বাড়লে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, একই সঙ্গে জ্বালানির ব্যবহারও কমবে।
এই পদযাত্রার মাধ্যমে তিনি পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলাধার ভরাটের ক্ষতি এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসের বিরূপ প্রভাব সম্পর্কেও সচেতনতা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পথ চলতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। অনেকেই তাঁকে উৎসাহ দিচ্ছেন এবং যাত্রাপথে থাকার ব্যবস্থাও করে দিচ্ছেন।
ফাহিম বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করেন এবং একটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছোটবেলা থেকেই হাঁটার অভ্যাস ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতাই তাঁকে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে দেশের ৬৪টি জেলা হেঁটে ঘুরে দেখার পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ সমাজে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও পরিবেশবান্ধব চিন্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ফাহিমের এই পদযাত্রা দেখিয়ে দিচ্ছে, ছোট একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগও মানুষের মধ্যে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।























