ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ২ জুলাই শুরু হচ্ছে ১৯তম ‘অ্যাসেন্ট কর্পোরেট কাপ-২০২৬’ Logo জুলাইয়ে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর Logo আড়াই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হলো ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বাস চলাচল Logo চট্টগ্রাম পেল নতুন থানা, নিকারের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত Logo সিল-সই জালিয়াতি, কম্পিউটার ব্যবসায়ীকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড Logo গরমে কফিপ্রেমীদের নতুন পছন্দ, ইতালির অ্যাফোগাটো কফি Logo মাংস দিয়ে বুটের ডালের দারুণ রেসিপি, স্বাদে হবে সবাই মুগ্ধ Logo স্বাদ অটুট রেখে স্বাস্থ্যকর লুচি বানানোর সহজ কৌশল Logo শিশু সবজি খেতে চায় না? অভ্যাস বদলাবে ৬ সহজ কৌশলে Logo রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বড় সুযোগ, ২০০ বাংলাদেশি পাচ্ছেন সরকারি বৃত্তি

শিশু সবজি খেতে চায় না? অভ্যাস বদলাবে ৬ সহজ কৌশলে

সবজি দেখলেই মুখ ঘুরিয়ে নেয় শিশু? সহজ ৬ উপায়েই বদলে যাবে অভ্যাস । ছবি: সংগৃহীত

শিশু সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়— এমন অভিযোগ প্রায় প্রতিটি পরিবারেই শোনা যায়। অনেক শিশু ভাত, মাছ, মাংস বা প্রিয় খাবার খেতে আগ্রহী হলেও সবজি সামনে এলেই অনীহা দেখায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোর করে খাওয়ানোর পরিবর্তে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। নিয়মিত পরিচয়, সুন্দর পরিবেশন এবং পরিবারের ইতিবাচক অভ্যাসই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কেন জরুরি শিশুদের সবজি খাওয়ার অভ্যাস?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছরেই খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয়। এই সময় স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলে ভবিষ্যতেও তারা পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা গড়ে তোলে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি নির্ভরতা বাড়লে শিশুর শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিকাশ, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, আচরণ এবং পড়াশোনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শিশুদের সবজি খাওয়ানোর ৬ কার্যকর উপায়

১. একই সবজি বারবার দিন

একবার সবজি খেতে না চাইলে সেটি বাদ দেবেন না। একই সবজি কয়েকবার ভিন্নভাবে পরিবেশন করলে শিশুরা ধীরে ধীরে সেই স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছর বয়সের আগেই এ অভ্যাস গড়ে তুললে ভালো ফল পাওয়া যায়।

২. খাবারের শুরুতেই সবজি দিন

শিশু যখন সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত থাকে, তখন খাবারের শুরুতেই সবজি পরিবেশন করুন। ক্ষুধা বেশি থাকলে নতুন বা কম পছন্দের খাবারও খাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পরে পেট ভরে গেলে সবজি খাওয়ার আগ্রহ অনেকটাই কমে যায়।

৩. প্রতিদিনের খাবারে সবজির পরিমাণ বাড়ান

সবজি শুধু আলাদা করে পরিবেশন না করে রান্নার মধ্যেও যোগ করতে পারেন।

যেমন—

  • গাজর কুচি
  • লাউ কুচি
  • পালং শাক
  • ফুলকপি বা ব্রকোলি ছোট করে কেটে

এসব খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে শিশু সহজেই খেয়ে নেয় এবং খাবারের পুষ্টিমানও বেড়ে যায়।

৪. সবজিকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে দিন

শিশুরা প্রথমে চোখ দিয়েই খাবার বিচার করে। তাই সবজিকে ফুল, তারা, প্রজাপতি বা অন্য মজার আকৃতিতে কেটে পরিবেশন করলে তাদের আগ্রহ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া—

  • রঙিন প্লেটে পরিবেশন করুন।
  • ছোট ছোট অংশে সাজিয়ে দিন।
  • বিভিন্ন রঙের সবজি একসঙ্গে রাখুন।

এতে খাবার শিশুর কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

৫. পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

শিশুরা বড়দের অনুসরণ করেই অনেক কিছু শেখে। তাই বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়মিত সবজি খেলে শিশুরাও তা গ্রহণ করতে উৎসাহিত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিবারের সঙ্গে বসে নিয়মিত খাবার খায়, তাদের খাদ্যাভ্যাস তুলনামূলক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়।

৬. খাবারের সময় আনন্দের পরিবেশ তৈরি করুন

শিশুকে জোর করে সবজি খাওয়ানো কখনোই ভালো উপায় নয়। এতে উল্টো খাবারের প্রতি ভয় বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে।

বরং শিশুকে—

  • সবজি ধোয়ার কাজে অংশ নিতে দিন।
  • সবজি স্পর্শ ও গন্ধ নিতে উৎসাহ দিন।
  • রান্নার ছোটখাটো কাজে যুক্ত করুন।
  • নতুন সবজি নিয়ে খেলাধুলার মতো পরিচিত হওয়ার সুযোগ দিন।

এতে তারা নতুন খাবারের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

বাবা-মায়ের ধৈর্যই সবচেয়ে বড় শক্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একদিনে তৈরি হয় না। এজন্য প্রয়োজন ধৈর্য, নিয়মিত চেষ্টা এবং ইতিবাচক পরিবেশ। শিশুকে বকাঝকা বা চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে সবজির সঙ্গে পরিচিত করালে তারা একসময় নিজেরাই আগ্রহ নিয়ে সবজি খেতে শুরু করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুর সামনে স্বাস্থ্যকর খাবারের ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করা। পরিবারের সবাই যদি নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখে, তাহলে শিশুরাও সেই অভ্যাস সহজেই গ্রহণ করবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২ জুলাই শুরু হচ্ছে ১৯তম ‘অ্যাসেন্ট কর্পোরেট কাপ-২০২৬’

শিশু সবজি খেতে চায় না? অভ্যাস বদলাবে ৬ সহজ কৌশলে

Update Time : ০৪:৩৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

শিশু সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়— এমন অভিযোগ প্রায় প্রতিটি পরিবারেই শোনা যায়। অনেক শিশু ভাত, মাছ, মাংস বা প্রিয় খাবার খেতে আগ্রহী হলেও সবজি সামনে এলেই অনীহা দেখায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জোর করে খাওয়ানোর পরিবর্তে কিছু সহজ কৌশল অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে শিশুদের মধ্যে সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সম্ভব। নিয়মিত পরিচয়, সুন্দর পরিবেশন এবং পরিবারের ইতিবাচক অভ্যাসই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কেন জরুরি শিশুদের সবজি খাওয়ার অভ্যাস?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছরেই খাদ্যাভ্যাস তৈরি হয়। এই সময় স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারলে ভবিষ্যতেও তারা পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রবণতা গড়ে তোলে।

অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি নির্ভরতা বাড়লে শিশুর শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিকাশ, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি, আচরণ এবং পড়াশোনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শিশুদের সবজি খাওয়ানোর ৬ কার্যকর উপায়

১. একই সবজি বারবার দিন

একবার সবজি খেতে না চাইলে সেটি বাদ দেবেন না। একই সবজি কয়েকবার ভিন্নভাবে পরিবেশন করলে শিশুরা ধীরে ধীরে সেই স্বাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাঁচ বছর বয়সের আগেই এ অভ্যাস গড়ে তুললে ভালো ফল পাওয়া যায়।

২. খাবারের শুরুতেই সবজি দিন

শিশু যখন সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত থাকে, তখন খাবারের শুরুতেই সবজি পরিবেশন করুন। ক্ষুধা বেশি থাকলে নতুন বা কম পছন্দের খাবারও খাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। পরে পেট ভরে গেলে সবজি খাওয়ার আগ্রহ অনেকটাই কমে যায়।

৩. প্রতিদিনের খাবারে সবজির পরিমাণ বাড়ান

সবজি শুধু আলাদা করে পরিবেশন না করে রান্নার মধ্যেও যোগ করতে পারেন।

যেমন—

  • গাজর কুচি
  • লাউ কুচি
  • পালং শাক
  • ফুলকপি বা ব্রকোলি ছোট করে কেটে

এসব খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে দিলে শিশু সহজেই খেয়ে নেয় এবং খাবারের পুষ্টিমানও বেড়ে যায়।

৪. সবজিকে আকর্ষণীয়ভাবে সাজিয়ে দিন

শিশুরা প্রথমে চোখ দিয়েই খাবার বিচার করে। তাই সবজিকে ফুল, তারা, প্রজাপতি বা অন্য মজার আকৃতিতে কেটে পরিবেশন করলে তাদের আগ্রহ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া—

  • রঙিন প্লেটে পরিবেশন করুন।
  • ছোট ছোট অংশে সাজিয়ে দিন।
  • বিভিন্ন রঙের সবজি একসঙ্গে রাখুন।

এতে খাবার শিশুর কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

৫. পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন

শিশুরা বড়দের অনুসরণ করেই অনেক কিছু শেখে। তাই বাবা-মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়মিত সবজি খেলে শিশুরাও তা গ্রহণ করতে উৎসাহিত হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পরিবারের সঙ্গে বসে নিয়মিত খাবার খায়, তাদের খাদ্যাভ্যাস তুলনামূলক বেশি স্বাস্থ্যকর হয়।

৬. খাবারের সময় আনন্দের পরিবেশ তৈরি করুন

শিশুকে জোর করে সবজি খাওয়ানো কখনোই ভালো উপায় নয়। এতে উল্টো খাবারের প্রতি ভয় বা বিরক্তি তৈরি হতে পারে।

বরং শিশুকে—

  • সবজি ধোয়ার কাজে অংশ নিতে দিন।
  • সবজি স্পর্শ ও গন্ধ নিতে উৎসাহ দিন।
  • রান্নার ছোটখাটো কাজে যুক্ত করুন।
  • নতুন সবজি নিয়ে খেলাধুলার মতো পরিচিত হওয়ার সুযোগ দিন।

এতে তারা নতুন খাবারের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।

বাবা-মায়ের ধৈর্যই সবচেয়ে বড় শক্তি

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস একদিনে তৈরি হয় না। এজন্য প্রয়োজন ধৈর্য, নিয়মিত চেষ্টা এবং ইতিবাচক পরিবেশ। শিশুকে বকাঝকা বা চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে সবজির সঙ্গে পরিচিত করালে তারা একসময় নিজেরাই আগ্রহ নিয়ে সবজি খেতে শুরু করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুর সামনে স্বাস্থ্যকর খাবারের ইতিবাচক উদাহরণ তৈরি করা। পরিবারের সবাই যদি নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখে, তাহলে শিশুরাও সেই অভ্যাস সহজেই গ্রহণ করবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি তাদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।