ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ভক্তের উম্মাদনা আর শিহরণ, তবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিতে এবার সেলেসাওদের ভাঙতে হবে এক চরম অস্বস্তিকর ইতিহাস। ফুটবল ইতিহাসে নরওয়ের বিপক্ষে চারবারের দেখায় দুটি হার ও দুটি ড্রয়ের তিক্ত পরিসংখ্যান নিয়ে মাঠের লড়াইয়ে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
কার্লো আনচেলত্তির শীর্ষ দলটির উদ্বেগের আসল কারণ শুধু অতীতের বিবর্ণ রেকর্ড নয়, বরং ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম নরওয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রতিভাবান সুবর্ণ প্রজন্মের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। দীর্ঘদিন দুই দলের দেখা না হলেও গত তিন দশকে নরওয়ের ফুটবল কাঠামো ও খেলোয়াড় তৈরির প্রক্রিয়ায় এক অবিশ্বাস্য বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ও গ্লোবো’-এর কলামিস্ট কার্লোস এদুয়ার্দোর মতে, নরওয়ের বর্তমান আক্রমণভাগ গতি ও প্রযুক্তির দিক থেকে তাদের নব্বইয়ের দশকের সেই সফল দলটির চেয়েও ঢের বেশি শক্তিশালী। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের তীব্র গরম ও প্রতিকূল আবহাওয়া মোকাবিলা করে মাঠে নামতে হবে এবং এই কন্ডিশন ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ-এর ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
এক সময় নরওয়ের প্রধান ভরসা টোরে আন্দ্রে ফ্লো হলেও, বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের সাথে তার তুলনা করলেই দুই দলের শক্তি ও সামর্থ্যের আকাশ-পাতাল পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ম্যানচেস্টার সিটির এই বিধ্বংসী স্ট্রাইকার জাতীয় দলের হয়ে মাত্র ৫৩ ম্যাচে ৬০ গোল করে বিশ্ব ফুটবলে ইতোমধ্যে নিজের একক আধিপত্য ও রেকর্ড কায়েম করেছেন।
হালান্ডের পাশাপাশি মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার সোরলোথ এবং অস্কার ববের মতো ইউরোপ কাঁপানো তারকারা নরওয়ের আক্রমণভাগকে যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়, ড্রিবলিং-সমৃদ্ধ ও সৃজনশীল করে তুলেছেন। ফলে নকআউট পর্বের এই হাইভোল্টেজ ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচ-এ ডিফেন্ডারদের জন্য প্রতিপক্ষের এই আক্রমণভাগকে সামলানো হবে এক বিরাট অগ্নিপরীক্ষা।


























