ঢাকা ১১:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo প্রকৃতির নানা রং ও জাতের ফলফলাদি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত Logo যে চারটি গুণ পরিবারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনে Logo যে ৩ শ্রেণির মানুষের জন্য রাসুল (সা.) জান্নাতে একটি ঘরের জিম্মাদার হবেন Logo ফ্রান্সে জন্মহার বাড়াতে মা-বাবার জন্য নতুন বেতনসহ ছুটি Logo টানা দুই দফায় ভরিতে কত বাড়ল সোনা-রুপার দাম Logo এআই দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার মনিটরিং করবে সরকার: ৩০ পণ্যে নজরদারির পরিকল্পনা Logo পায়ে ঘন ঘন ঝিঁঝিঁ ধরছে? উপকার মিলতে পারে এই ৪ শুকনো ফলে Logo তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহায়তা, জানুন বিস্তারিত Logo এইচএসসি পরীক্ষা ২০২৬ নির্দেশনা, অভিভাবকদের জন্য বোর্ডের নতুন জরুরি নির্দেশনা Logo নিজেকে ভালোবাসতে শিখুন, বদলে যেতে পারে জীবন

যে চারটি গুণ পরিবারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনে

হালাল রিজিকেই রয়েছে প্রকৃত বরকত।

বরকত কী?

আরবি ‘বারাকাহ (بركة)’ শব্দ থেকে ‘বরকত’ শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ হলো কল্যাণ, স্থায়িত্ব, বৃদ্ধি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন বিশেষ অনুগ্রহ, যার ফলে অল্প জিনিসেও অনেক উপকার ও শান্তি লাভ হয়। তাই বরকত শুধু বেশি অর্থ বা সম্পদের নাম নয়; বরং জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কল্যাণের উপস্থিতিই প্রকৃত বরকত।

পরিবারে বরকত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইসলামে পরিবারকে সমাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি পরিবারে যদি পারস্পরিক ভালোবাসা, হালাল উপার্জন, আল্লাহর স্মরণ এবং পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকে, তাহলে সেখানে অর্থ কম হলেও মানসিক শান্তি ও সুখ বিরাজ করে। অন্যদিকে হারাম উপার্জন, অপচয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা এবং আল্লাহর বিধান অমান্য করলে সম্পদ বেশি হলেও বরকত কমে যেতে পারে।

কুরআনে বরকত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,

“আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতের দরজাগুলো খুলে দিতাম।”
(সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৯৬)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ঈমান ও তাকওয়া বরকত লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

যে আমলগুলো পরিবারে বরকত বৃদ্ধি করে

ইসলামী শিক্ষায় কয়েকটি বিষয়কে বরকতের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • হালাল উপার্জন: হারাম আয় বরকত নষ্ট করে, আর হালাল রিজিক পরিবারে শান্তি ও কল্যাণ আনে।
  • আল্লাহর শোকর আদায়: মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।” (সুরা ইবরাহিম: ৭)
  • আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা: আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে রিজিক বৃদ্ধি ও জীবনে বরকত আসে—এ কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
  • সদকা ও দান: মানুষের ধারণা দান করলে সম্পদ কমে যায়, অথচ হাদিসে এসেছে সদকা সম্পদকে কমায় না; বরং আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন।
  • ইস্তিগফার করা: বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ রিজিক ও কল্যাণের দরজা খুলে দেন।
  • অপচয় থেকে বিরত থাকা: ইসলাম অপচয়কে অপছন্দ করে। পরিকল্পিত ব্যয়ও বরকত ধরে রাখতে সাহায্য করে।

বরকতের বাস্তব প্রভাব

বরকত থাকলে অল্প আয়েও সংসার সুন্দরভাবে চলে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ে, সন্তানদের মধ্যে নৈতিকতা গড়ে ওঠে এবং মানসিক প্রশান্তি আসে। অনেক সময় একই পরিমাণ আয় থাকা সত্ত্বেও একটি পরিবার সুখে-শান্তিতে থাকে, অন্যটি নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকে। ইসলামের ভাষায় এই পার্থক্যের অন্যতম কারণ হলো বরকতের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি।

তাই একজন মুমিনের উচিত শুধু বেশি উপার্জনের চেষ্টা না করে বরং হালাল রিজিক, আল্লাহর আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা, দান-সদকা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে নিজের পরিবারে বরকত আনার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু অর্থের পরিমাণে নয়, বরং সেই সম্পদে আল্লাহর বরকত থাকার মধ্যেই নিহিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রকৃতির নানা রং ও জাতের ফলফলাদি আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত

যে চারটি গুণ পরিবারে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বয়ে আনে

Update Time : ১১:৩২:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

বরকত কী?

আরবি ‘বারাকাহ (بركة)’ শব্দ থেকে ‘বরকত’ শব্দের উৎপত্তি। এর অর্থ হলো কল্যাণ, স্থায়িত্ব, বৃদ্ধি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন বিশেষ অনুগ্রহ, যার ফলে অল্প জিনিসেও অনেক উপকার ও শান্তি লাভ হয়। তাই বরকত শুধু বেশি অর্থ বা সম্পদের নাম নয়; বরং জীবনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কল্যাণের উপস্থিতিই প্রকৃত বরকত।

পরিবারে বরকত কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইসলামে পরিবারকে সমাজের ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। একটি পরিবারে যদি পারস্পরিক ভালোবাসা, হালাল উপার্জন, আল্লাহর স্মরণ এবং পরস্পরের প্রতি দায়িত্ববোধ থাকে, তাহলে সেখানে অর্থ কম হলেও মানসিক শান্তি ও সুখ বিরাজ করে। অন্যদিকে হারাম উপার্জন, অপচয়, আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করা এবং আল্লাহর বিধান অমান্য করলে সম্পদ বেশি হলেও বরকত কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  কোরবানির পশু বিক্রি করা যাবে কি? শরীয়ত অনুযায়ী করণীয়

কুরআনে বরকত সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?

মহান আল্লাহ তাআলা বলেন,

“আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং তাকওয়া অবলম্বন করত, তবে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আসমান ও জমিনের বরকতের দরজাগুলো খুলে দিতাম।”
(সুরা আল-আরাফ, আয়াত: ৯৬)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, ঈমান ও তাকওয়া বরকত লাভের অন্যতম প্রধান মাধ্যম।

যে আমলগুলো পরিবারে বরকত বৃদ্ধি করে

ইসলামী শিক্ষায় কয়েকটি বিষয়কে বরকতের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—

  • হালাল উপার্জন: হারাম আয় বরকত নষ্ট করে, আর হালাল রিজিক পরিবারে শান্তি ও কল্যাণ আনে।
  • আল্লাহর শোকর আদায়: মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বৃদ্ধি করে দেব।” (সুরা ইবরাহিম: ৭)
  • আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা: আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করলে রিজিক বৃদ্ধি ও জীবনে বরকত আসে—এ কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
  • সদকা ও দান: মানুষের ধারণা দান করলে সম্পদ কমে যায়, অথচ হাদিসে এসেছে সদকা সম্পদকে কমায় না; বরং আল্লাহ তাতে বরকত দান করেন।
  • ইস্তিগফার করা: বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ রিজিক ও কল্যাণের দরজা খুলে দেন।
  • অপচয় থেকে বিরত থাকা: ইসলাম অপচয়কে অপছন্দ করে। পরিকল্পিত ব্যয়ও বরকত ধরে রাখতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন  বিমানের হজ কার্যক্রম শেষ : ফ্লাইট বাতিল ছাড়াই ফিরলেন ৩৪৪৬৪ যাত্রী

বরকতের বাস্তব প্রভাব

বরকত থাকলে অল্প আয়েও সংসার সুন্দরভাবে চলে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ে, সন্তানদের মধ্যে নৈতিকতা গড়ে ওঠে এবং মানসিক প্রশান্তি আসে। অনেক সময় একই পরিমাণ আয় থাকা সত্ত্বেও একটি পরিবার সুখে-শান্তিতে থাকে, অন্যটি নানা সমস্যায় জর্জরিত থাকে। ইসলামের ভাষায় এই পার্থক্যের অন্যতম কারণ হলো বরকতের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি।

আরও পড়ুন  ইসলাম কী বলে, স্ত্রীর টাকা-কার অধিকার?

তাই একজন মুমিনের উচিত শুধু বেশি উপার্জনের চেষ্টা না করে বরং হালাল রিজিক, আল্লাহর আনুগত্য, কৃতজ্ঞতা, দান-সদকা এবং উত্তম চরিত্রের মাধ্যমে নিজের পরিবারে বরকত আনার চেষ্টা করা। কারণ প্রকৃত সমৃদ্ধি শুধু অর্থের পরিমাণে নয়, বরং সেই সম্পদে আল্লাহর বরকত থাকার মধ্যেই নিহিত।