ঢাকা ০৭:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের রেকর্ড ৬ ইউনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান Logo প্রস্রাবের রঙ দেখে বুঝবেন কোন রোগের ইঙ্গিত মিলছে Logo শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ৫টি বড় সিদ্ধান্ত Logo স্ট্রোক নাকি সাধারণ জ্ঞান হারানো? পার্থক্য জানুন Logo আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া কেপ ভার্দের কে এই লোপেজ Logo সৌরবিদ্যুৎচালিত হিমাগার পাচ্ছে প্রতিটি ইউনিয়ন, জানালেন কৃষিমন্ত্রী Logo বিশ্বকাপের সূচি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্কালোনি, আর্জেন্টিনার বড় অভিযোগ Logo যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০ বছর পূর্তিতে ঢাকায় বর্ণিল আমেরিকান মেলা Logo হলান্ডকে থামানোর গোপন কৌশল জানেন আনচেলত্তি! Logo দুর্নীতি-অবহেলা হলেই ট্রান্সফার নয় সরাসরি চাকরিচ্যুতি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন আলাল

নিয়মিত থেরাপি ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলছে। ছবি: সংগৃহীত

চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মির্জা আব্বাস বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি বিশেষায়িত পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। সেখানে তার জন্য নিয়মিত ফিজিওথেরাপি, নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন এবং হাঁটার সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন অনুশীলন পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে থেরাপি গ্রহণের পাশাপাশি হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাচলা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে তারা নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। চিকিৎসকদের সর্বশেষ মূল্যায়নে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি অব্যাহত রয়েছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও কিছু সময় নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

দলীয় নেতাকর্মীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক তার সুস্থতার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে তার সুস্থ হয়ে দ্রুত স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নিয়মিত থেরাপি, ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা মেনে চললে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ও নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণ করা জরুরি।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মির্জা আব্বাসের দৈনন্দিন শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চিকিৎসকরা ধাপে ধাপে পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে হাঁটার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, পেশির শক্তি বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি থেরাপি সেশনের পর তার শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুসরণ করছেন। পাশাপাশি মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকতে পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিক তার পাশে রয়েছেন, যা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সময়ে সময়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দলের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চললে তিনি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসনের অগ্রগতি প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কয়েক মাস, আবার কারও ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই এ ধরনের চিকিৎসায় নিয়মিত থেরাপি, ধৈর্য এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শুভকামনা জানাচ্ছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই তার পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হলে পরবর্তী ধাপে দেশে ফেরার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি জানানো হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চকবাজারের আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের রেকর্ড ৬ ইউনিটের শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিলেন আলাল

Update Time : ০৪:০৮:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মির্জা আব্বাস বর্তমানে মালয়েশিয়ার একটি বিশেষায়িত পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। সেখানে তার জন্য নিয়মিত ফিজিওথেরাপি, নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন এবং হাঁটার সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন অনুশীলন পরিচালনা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে থেরাপি গ্রহণের পাশাপাশি হালকা ব্যায়াম ও হাঁটাচলা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে তারা নিয়মিত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। চিকিৎসকদের সর্বশেষ মূল্যায়নে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি অব্যাহত রয়েছে এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে আরও কিছু সময় নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

দলীয় নেতাকর্মীরা দেশ-বিদেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মির্জা আব্বাসের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক তার সুস্থতার জন্য দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর কাছে তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য দোয়া চাওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  শিক্ষককে জুতাপেটার অভিযোগ অস্বীকার করে সেই বিএনপি নেতার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ফলে তার সুস্থ হয়ে দ্রুত স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসন চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। নিয়মিত থেরাপি, ব্যায়াম, সুষম খাদ্য এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা মেনে চললে রোগীর শারীরিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে ফিরে আসার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ও নিয়মিত চিকিৎসা অনুসরণ করা জরুরি।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর প্রথমে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য মালয়েশিয়ার বিশেষায়িত কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

আরও পড়ুন  বাবা ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ বলা সেই এমপির বাবা এখনো জীবিত

মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মির্জা আব্বাসের দৈনন্দিন শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে চিকিৎসকরা ধাপে ধাপে পুনর্বাসন কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। চিকিৎসার অংশ হিসেবে হাঁটার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, পেশির শক্তি বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক চলাফেরার সক্ষমতা উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি থেরাপি সেশনের পর তার শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিয়মিত ব্যায়াম এবং নির্ধারিত খাদ্যতালিকা অনুসরণ করছেন। পাশাপাশি মানসিকভাবে ইতিবাচক থাকতে পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিক তার পাশে রয়েছেন, যা পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সময়ে সময়ে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। দলের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করেছেন, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চললে তিনি ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

আরও পড়ুন  শাহজালাল (রহঃ) মাজার জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী, সিলেটে কর্মসূচি

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর পুনর্বাসনের অগ্রগতি প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কয়েক মাস, আবার কারও ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তাই এ ধরনের চিকিৎসায় নিয়মিত থেরাপি, ধৈর্য এবং চিকিৎসকদের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে মির্জা আব্বাসের সুস্থতা কামনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকেই তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শুভকামনা জানাচ্ছেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ীই তার পরবর্তী চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শারীরিক অবস্থার আরও উন্নতি হলে পরবর্তী ধাপে দেশে ফেরার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি জানানো হয়নি।