চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে নতুন ইতিহাস গড়ার হাতছানি বার্সেলোনার সামনে। স্প্যানিশ ফুটবলের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দ্বৈরথ এল ক্লাসিকোতে এবার জিতলেই লা লিগার প্রথম ১০ ম্যাচে টানা জয়ের রেকর্ড গড়বে কাতালান ক্লাবটি। তবে গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে আত্মবিশ্বাসে এগিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।
চলতি মৌসুমে লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। প্রথম নয় ম্যাচের সবকটিতে জিতে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে হান্সি ফ্লিকের দল। অন্যদিকে সমান ম্যাচে সাতটি জয় নিয়ে ২১ পয়েন্টে তৃতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্যারিস সেন্ট জার্মেইর কাছে ৪-২ গোলে হারের পর কিছুটা চাপে রয়েছে বার্সা।
বিপরীতে টানা চার ম্যাচে জিতে এল ক্লাসিকোর আগে নিজেদের প্রস্তুতির প্রমাণ দিয়েছে রিয়াল। ফলে লিগের পয়েন্ট তালিকায় পিছিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি ম্যাচের প্রত্যাশা করছেন সমর্থকেরা। ঐতিহ্য, মর্যাদা ও দুই দলের তারকাদের পারফরম্যান্স মিলিয়ে ম্যাচটি ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।
বার্সার ভরসা ইয়ামাল ও রাফিনিয়া
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার আক্রমণভাগে দারুণ অবদান রাখছেন লামিনে ইয়ামাল ও রাফিনিয়া। টানা ১০ ম্যাচে গোল করা কিংবা গোলে সহায়তা করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ইয়ামাল। এই সময়ে তার নামের পাশে রয়েছে ১০ গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট। তরুণ এই তারকার পারফরম্যান্স এল ক্লাসিকোতেও বার্সার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে লা লিগায় গোলের ধারায় এগিয়ে রয়েছেন রাফিনিয়া। মৌসুমের প্রথম নয় ম্যাচে তার ১২ গোলের কীর্তি তাকে বিশেষ অবস্থানে রেখেছে। একবিংশ শতাব্দীতে লিগের প্রথম নয় ম্যাচে এর চেয়ে বেশি গোল করেছেন কেবল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। ফলে রিয়ালের বিপক্ষে তার দিকেও থাকবে বাড়তি নজর।
ভিনিসিয়ুসের অনুপস্থিতিতে বাড়তি দায়িত্ব এমবাপের
নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচে খেলতে পারবেন না রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপের ওপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। বার্সেলোনার বিপক্ষে রিয়ালে যোগ দেওয়ার পর ছয় ম্যাচে ছয় গোল করেছেন ফরাসি তারকা। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তার গোলসংখ্যা ১২।
এমবাপের পাশাপাশি রিয়ালের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন জুড বেলিংহাম। বার্সেলোনার বিপক্ষে ছয়টি এল ক্লাসিকোতে ছয় গোলের সঙ্গে দুটি গোলে সহায়তা করেছেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। তার চারটি গোলের মধ্যে তিনটিই ছিল ম্যাচজয়ী। এ ছাড়া তরুণ খেলোয়াড়দের মধ্যে ইয়ান দিয়োমান্দের পারফরম্যান্সও রিয়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এল ক্লাসিকোতে মরিনিয়োর প্রত্যাবর্তন
এবারের এল ক্লাসিকো ঘিরে আলোচনায় রয়েছেন পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনিয়োও। বার্সেলোনার বিপক্ষে তার আগের ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদে দায়িত্ব পালনকালে পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার আধিপত্য ভাঙার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন তিনি।
মরিনিয়োর মতে, একটি দলকে পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে তুলতে সময় প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি করা এবং দলের খেলার ধরন প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলতে থাকে। অন্যদিকে বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক প্রতিপক্ষ কোচের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বড় ক্লাবগুলোতে সাফল্য পাওয়ার মাধ্যমে মরিনিয়ো নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।
পিএসজির বিপক্ষে হার থেকেও শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফ্লিক। তার মতে, বার্সেলোনা অনেক ভালো খেললেও কিছু জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলা নিজেদের আরও উন্নত করার সুযোগ বলেও মনে করেন তিনি।
চোট ও নিষেধাজ্ঞায় দুই দলেই দুশ্চিন্তা
বার্সেলোনার মাঝমাঠের খেলোয়াড় দানি ওলমো উরুর চোটে প্রায় এক মাসের জন্য মাঠের বাইরে রয়েছেন। চোটের কারণে জুলস কুন্দে, এরিক গার্সিয়া, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ও রুনি বার্ডঘিওকে নিয়েও দুশ্চিন্তা রয়েছে। অন্যদিকে ভিনিসিয়ুসের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রদ্রিগো ও রাউল আসেনসিওর খেলা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইতিহাস গড়ার সুযোগ বার্সেলোনার
লা লিগার ইতিহাসে মৌসুমের প্রথম নয় ম্যাচে টানা জয়ের রেকর্ড গড়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে সেই কীর্তি গড়েছিল তারা। চলতি মৌসুমে প্রথম নয় ম্যাচে জিতে সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে বার্সেলোনা। এবার এল ক্লাসিকোতে জয় পেলে প্রথম ১০ ম্যাচেই জয়ের নতুন নজির গড়বে ফ্লিকের দল।
শুধু লিগেই নয়, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়েও গোলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে বার্সেলোনা। মৌসুমের প্রথম ১২ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৫০ গোল করেছে তারা। এর মধ্যে প্রথম ১১ ম্যাচেই জয়ের দেখা পেয়েছিল দলটি। এখন দেখার বিষয়, রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে বার্সেলোনা ইতিহাস গড়তে পারে, নাকি এল ক্লাসিকোতে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দেবে মাদ্রিদ।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন