জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্সের শেষ দিনে নারী ২০০ মিটার স্প্রিন্টে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন শিরিন আক্তার। অন্যদিকে, পুরুষদের ২০০ মিটার স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক জিতেছেন বাংলাদেশের দ্রুততম দৌড়বিদদের একজন ইমরানুর রহমান। শিরিন নিজের আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেও ইমরানুর অল্পের জন্য ছুঁতে পারেননি দীর্ঘদিনের রেকর্ড। তবে নিজের স্বাভাবিক ইভেন্টের বাইরে নেমেও স্বর্ণজয়ে সন্তুষ্ট এই অ্যাথলেট।
নারী ২০০ মিটার স্প্রিন্টে শিরিন আক্তার দৌড় শেষ করেন ২৪.৩৫ সেকেন্ডে। এর মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালে নিজের গড়া ২৪.৬৮ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙে দেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর এই অ্যাথলেট। আগের সময়ের চেয়ে ০.৩৩ সেকেন্ড কম সময়ে দৌড় শেষ করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন তিনি। জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্সের শেষ দিনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে তাঁর এই রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স।
নারীদের এই ইভেন্টে শিরিনের ধারেকাছেও যেতে পারেননি অন্য প্রতিযোগীরা। দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন। তিনি ২৫.১১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেন। শিরিনের সঙ্গে তাঁর সময়ের ব্যবধান ছিল ০.৭৬ সেকেন্ড। ফলে প্রতিযোগিতায় শিরিনের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। নিজের আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন সময় গড়ায় জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় আরও একবার আলোচনায় উঠে আসেন তিনি।
নারী ২০০ মিটার স্প্রিন্টে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মোসাম্মত বর্ষা খাতুন। তিনি দৌড় শেষ করেন ২৫.৩৩ সেকেন্ডে। এই ইভেন্টে প্রথম তিনটি পদকই জিতেছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। তবে সবার নজর কেড়েছে শিরিনের রেকর্ড গড়ার কীর্তি। তাঁর এই সাফল্য দেশের অ্যাথলেটিক্সে নারী স্প্রিন্টারদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতারও পরিচয় দিয়েছে।
নারীদের ইভেন্টের আগে বিকেল পৌনে ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় পুরুষদের ২০০ মিটার স্প্রিন্ট। সেখানে ২১.১৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে স্বর্ণপদক জেতেন ইমরানুর রহমান। তবে অল্পের জন্য ভাঙা হয়নি ১৯৯৯ সালে মাহবুব আলমের গড়া ২১.১৫ সেকেন্ডের রেকর্ড। রেকর্ডটি ভাঙতে ইমরানুরের প্রয়োজন ছিল মাত্র ০.০৩ সেকেন্ড কম সময়। ব্যবধান খুব সামান্য হলেও পুরুষদের এই ইভেন্টে সেরা হয়েছেন তিনিই।
তবে রেকর্ড হাতছাড়া হওয়ায় কোনো আক্ষেপ নেই ইমরানুরের। কারণ, তাঁর মূল ইভেন্ট ১০০ মিটার ও ৬০ মিটার স্প্রিন্ট। আসন্ন সাফ গেমসের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তিনি ২০০ মিটারে অংশ নিয়েছেন। গত বছরের আগস্টে সামার অ্যাথলেটিক্সেও এই দূরত্বে দৌড়েছিলেন বলে জানান তিনি। মূল ইভেন্টের বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও স্বর্ণপদক জেতাকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এই স্প্রিন্টার।
প্রতিযোগিতা শেষে ইমরানুর জানান, মূলত নিজের সক্ষমতা যাচাই এবং অনুশীলনের অংশ হিসেবে আনন্দের ছলেই তিনি ২০০ মিটারে নেমেছিলেন। তাঁর ভাষ্য, ১০০ ও ৬০ মিটারে তিনি বেশি পারদর্শী এবং নিয়মিত ২০০ মিটারের অনুশীলন করেন না। তবু এই ইভেন্টে ভালো ফল করতে পেরে সন্তুষ্ট তিনি। ভবিষ্যতে নিয়মিত অনুশীলন করলে আরও ভালো করার আশাও প্রকাশ করেছেন ইমরানুর।
পুরুষদের ২০০ মিটার স্প্রিন্টে দ্বিতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শান্ত কর্মকার। তিনি ২১.৬৩ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করে রৌপ্যপদক জেতেন। ২১.৭৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান। সব মিলিয়ে জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্সের শেষ দিনটি ছিল রেকর্ড ও পদকজয়ের আনন্দে ভরা। শিরিনের নতুন জাতীয় রেকর্ড এবং ইমরানুরের স্বর্ণজয় প্রতিযোগিতার সমাপ্তিকে দিয়েছে বাড়তি গুরুত্ব।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন