আশরাফুলকে সরাল বিসিবি, বিশ্বকাপের এক বছর আগে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে এসেছে বড় পরিবর্তন। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ব্যাটিং কোচের পদ থেকে মোহাম্মদ আশরাফুলকে সরিয়ে দিয়েছে। তার জায়গায় আপাতত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হাই পারফরম্যান্স বিভাগের কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনকে। ওয়ানডে বিশ্বকাপের এক বছরেরও কম সময় আগে বিসিবির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে আশরাফুলের কোচিং অধ্যায় শুরু হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে। ব্যাটিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর জাতীয় দলের ব্যাটিং ইউনিট নিয়ে কাজ করছিলেন তিনি। তবে এক বছরের মাথাতেই সেই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো তাকে। তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া সালাহউদ্দিন এর আগে বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। সে সময় দলের ব্যাটিং ইউনিটের দায়িত্বও তার হাতে ছিল। এবার আবারও ব্যাটিং কোচের ভূমিকায় ফিরছেন তিনি, যদিও আপাতত তার দায়িত্বের মেয়াদ অস্থায়ী।

খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেটে আশরাফুলের অবস্থান বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র ২০ বছর বয়সে ২০০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে ১৭৭ ম্যাচ খেলে ৩ হাজার ৪৬৮ রান করেছেন আশরাফুল। দেশের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকদের তালিকায় তার অবস্থান পঞ্চম।

টেস্ট ক্রিকেটেও আশরাফুলের রয়েছে উল্লেখযোগ্য অর্জন। বাংলাদেশের হয়ে তিনি খেলেছেন ৬১টি টেস্ট। টেস্টে সেঞ্চুরি করা সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারও ছিলেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের হয়ে ২৩টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এই সাবেক ক্রিকেটার।

খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানার পর কোচিংয়ে যুক্ত হন আশরাফুল। দুই বছর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে সক্রিয় ছিলেন তিনি। এরপর বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে জায়গা করে নেন এবং ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পান। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় এক বছর পরই তাকে সরিয়ে দিল বিসিবি।

তবে আশরাফুলকে কেন সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিসিবি নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। ফলে বোর্ডের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না থাকায় সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ নিয়ে পারফরম্যান্সের দিকে তাকাতেই হচ্ছে। বিশেষ করে ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং পারফরম্যান্স খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।

বিশ্বকাপের ঠিক এক বছর আগে বাংলাদেশের ওয়ানডে ব্যাটিং নিয়ে এমন পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয় দলকে। ওই ম্যাচের পর বাংলাদেশের ব্যাটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন পেসার তাসকিন আহমেদ। তার ভাষ্য ছিল, ‘আসলে ব্যাটসম্যানদের জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু পারে নাই।’

শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, আশরাফুল দায়িত্ব নেওয়ার পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের কিছু পরিসংখ্যানও ব্যাটিং দুর্বলতার দিকটি সামনে আনছে। এই সময়ে ২০০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একবারও জয় পায়নি বাংলাদেশ। এমনকি অন্তত ৯০ রানের ব্যবধানে দুইবার হারতে হয়েছে দলকে। এর বাইরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৪১ রান তাড়া করতে গিয়েও হারের মুখ দেখতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

এই পরিসংখ্যানের কারণে দলের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিশ্বকাপের আর বেশি সময় বাকি নেই, এমন সময়ে ওয়ানডেতে ব্যাটিং ইউনিটের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে ব্যাটিং কোচের জায়গায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আশরাফুলকে সরানোর বিষয়ে বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি। তাই তার দায়িত্ব পরিবর্তনের পেছনে ঠিক কোন বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে, সেটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে দলের সাম্প্রতিক ওয়ানডে ব্যাটিং পারফরম্যান্স এবং বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই পরিবর্তনকে দেখা হচ্ছে। আপাতত সালাহউদ্দিনের হাতে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব দিয়ে বাংলাদেশ দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিসিবি।