বাংলাদেশের সাফ স্কোয়াডে এবার অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেল। ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে ২৮ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ দুই ডিফেন্ডার, পাশাপাশি সুযোগ পেয়েছেন অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে নজর কাড়া দুই প্রবাসী ফুটবলার।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঘোষিত এই দলে নতুন সংযোজন ও অভিজ্ঞদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আলোচনা। প্রায় দুই দশক পর সাফের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। নিজেদের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চান দলের কোচ টমাস ডুলি ও তাঁর শিষ্যরা।
বাংলাদেশের ফুটবলে দীর্ঘদিনের আলোচিত সমস্যা হলো কার্যকর স্ট্রাইকারের অভাব। সর্বশেষ ফিফা আসিয়ান কাপেও গোল করার ক্ষেত্রে সেই দুর্বলতা সামনে এসেছিল। এবার আক্রমণভাগে বিকল্প বাড়াতে দলে রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান ও মোহাম্মদ মাহে খানকে।
দুজনই বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ে অবদান রেখেছিলেন। ওই আসরে তাঁদের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছিল। এবার জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ায় নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের আরেকটি সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁদের সামনে। তবে মূল দলের আক্রমণভাগে তাঁরা কতটা প্রভাব ফেলতে পারবেন, তা বোঝা যাবে মাঠের পারফরম্যান্সে।
রক্ষণভাগেও স্বস্তির খবর পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ফিফা আসিয়ান কাপের দলে না থাকা তপু বর্মণ ও বিশ্বনাথ ঘোষ ফিরেছেন স্কোয়াডে। অভিজ্ঞ এই দুই ডিফেন্ডারের উপস্থিতি দলের রক্ষণ সামলানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি তাঁদের অভিজ্ঞতা অন্য খেলোয়াড়দেরও আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।
মাঝমাঠে বাংলাদেশের শক্তির জায়গাগুলোও ধরে রাখা হয়েছে। হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শমিত সোম ও জামাল ভূঁইয়ার মতো পরিচিত মুখদের সঙ্গে ফিরেছেন সৈয়দ কাজেম শাহ কিরমানে। ফলে বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ তৈরির গতি এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে যাওয়ার ক্ষেত্রে দলটি বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। তবে মাঠে এই সমন্বয় কতটা কার্যকর হবে, সেটিই হবে বড় পরীক্ষা।
অন্যদিকে, সর্বশেষ ফিফা আসিয়ান কাপের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন শাহরিয়ার ইমন, শাকিল আহাদ তপু ও এস এম মনজুরুর রহমান। আসিয়ান কাপে বাংলাদেশের প্রথম গোলটি করেছিলেন শাহরিয়ার ইমন। তাঁর বাদ পড়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে কোচের পরিকল্পনা ও খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্মের ওপরই চূড়ান্ত দল নির্বাচনের বিষয়টি নির্ভর করবে।
বাংলাদেশের ২৮ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াড
গোলরক্ষক: মিতুল মারমা, সুজন হোসেন ও মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
ডিফেন্ডার: তপু বর্মণ, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, রহমত মিয়া, জিদান আলেকজান্ডার ইউসুফ, ইসা ফয়সাল, তারিক রায়হান কাজী ও জায়ান আহমেদ।
মিডফিল্ডার: সোহেল রানা (সিনিয়র), সোহেল রানা (জুনিয়র), মোহাম্মদ হৃদয়, হামজা দেওয়ান চৌধুরী, শেখ মোরসালিন, শমিত সোম, সৈয়দ কাজেম শাহ কিরমানে ও জামাল ভূঁইয়া।
ফরোয়ার্ড: ফারহান আলী ওয়াহিদ, রাকিব হোসেন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, ফাহামিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইব্রাহিম, শুকি ইতোফুসা, মিনহাজুল করিম স্বাধীন, রোনান বেঞ্জামিন সুলিভান ও মোহাম্মদ মাহে খান।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সাফ স্কোয়াডে আক্রমণভাগে নতুন সম্ভাবনা, রক্ষণে অভিজ্ঞতার প্রত্যাবর্তন এবং মাঝমাঠে পরিচিত শক্তির সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। তবে প্রাথমিক দল থেকে চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচন, খেলোয়াড়দের ফিটনেস এবং দলীয় বোঝাপড়াই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখবে। ঘরের মাঠে সমর্থকদের প্রত্যাশা পূরণ করে বাংলাদেশ এবার শিরোপার লড়াইয়ে কত দূর যেতে পারে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন