রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে। এখন চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই শুরু হতে পারে পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রোববার (২৫ অক্টোবর) থেকে ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হবে কি না, তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের ওপর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ড. জাহেদুল হাসান জানান, প্রথম ইউনিটের বি-২ পর্যায়ের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে প্রবেশ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে এই পর্যায়ে শুরুতেই পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী পরীক্ষাগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে এই সময়সূচি চূড়ান্ত নয়। পরীক্ষার ফলাফল, নিরাপত্তাসংক্রান্ত শর্ত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপরই বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর বিষয়টি নির্ভর করবে।
এদিকে রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছে রাশিয়ার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করে। শুক্রবার রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে সফরসংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে। এ সময় তারা রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেয়। আলোচনায় প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়সহ প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি উঠে আসে।
ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন হওয়াকে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই পরীক্ষা শেষ হওয়া মানেই বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়ে যাওয়া নয়। পাওয়ার স্টার্টআপের পর আরও পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ধাপ পেরোতে হবে। সব শর্ত পূরণ হলেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ খুলবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় নতুন সংযোজন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সরবরাহ যুক্ত হবে। তবে প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি পরীক্ষা ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করা জরুরি।
সব মিলিয়ে, প্রথম ইউনিটের ফিজিক্স টেস্ট শেষ হওয়ায় রূপপুর প্রকল্পের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রস্তুতি তৈরি হয়েছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন, পাওয়ার স্টার্টআপ এবং পরবর্তী পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরুর সময়।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন