থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ: ঘাড়ে ছোট গাঁট, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন কিংবা খাবার গিলতে সমস্যা হচ্ছে? এসব উপসর্গকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। থাইরয়েড ক্যানসার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় ব্যথাহীন থাকে। ফলে রোগটি সহজে চোখে পড়ে না। তবে সময়মতো শনাক্ত করা গেলে অনেক ধরনের থাইরয়েড ক্যানসারের চিকিৎসায় ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

থাইরয়েড হলো গলার সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতির আকৃতির একটি ছোট গ্রন্থি। এটি শরীরের বিপাকক্রিয়া, হৃদ্‌স্পন্দন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই গ্রন্থিতে অস্বাভাবিক কোষের বৃদ্ধি থেকে ক্যানসার হতে পারে। তবে ঘাড়ে গাঁট বা থাইরয়েডের অন্য সমস্যা থাকলেই ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়।

থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে প্রথমেই নজরে রাখা দরকার ঘাড়ের সামনের দিকে নতুন কোনো গাঁট বা ফোলা দেখা যাচ্ছে কি না। এ ছাড়া দীর্ঘদিন কণ্ঠস্বর কর্কশ থাকা, গলা বা ঘাড়ে অস্বস্তি, খাবার গিলতে অসুবিধা এবং ঘাড়ের পাশে লসিকাগ্রন্থি ফুলে যাওয়াও সতর্কসংকেত হতে পারে। ঘাড়ে চাপ অনুভব করা বা জামার কলার আগের তুলনায় আঁটসাঁট মনে হওয়ার মতো পরিবর্তনও খেয়াল করা উচিত।

থাইরয়েড ক্যানসারের কয়েকটি ধরন রয়েছে। প্যাপিলারি থাইরয়েড ক্যানসার সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এবং সাধারণত ধীরে বাড়ে। ফলিকুলার ও মেডুলারি ক্যানসারও উল্লেখযোগ্য ধরন। অন্যদিকে, অ্যানাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যানসার বিরল হলেও দ্রুত বাড়তে পারে এবং চিকিৎসা করা তুলনামূলক কঠিন। ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ভিন্ন হয়।

কিছু বিষয় থাইরয়েড ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন, আগে মাথা বা ঘাড়ে রেডিয়েশন চিকিৎসা নেওয়া, পরিবারের সদস্যদের থাইরয়েড ক্যানসারের ইতিহাস থাকা এবং নির্দিষ্ট জেনেটিক পরিবর্তন। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রেই স্পষ্ট কোনো ঝুঁকির কারণ পাওয়া যায় না। তাই শুধু ঝুঁকির ইতিহাসের ওপর নির্ভর না করে নতুন বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।

থাইরয়েড ক্যানসার সন্দেহ হলে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা, ঘাড়ের আল্ট্রাসাউন্ড এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফাইন-নিডল অ্যাসপিরেশন বায়োপসির পরামর্শ দিতে পারেন। রক্ত পরীক্ষা থাইরয়েডের কার্যক্রম বুঝতে সাহায্য করে, তবে শুধু রক্ত পরীক্ষায় ক্যানসার নিশ্চিত বা বাতিল করা যায় না। রোগের ধরন ও পর্যায় অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন থেরাপি কিংবা অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হতে পারে।

মনে রাখতে হবে, এসব উপসর্গ থাকলেই ক্যানসার হয়েছে এমন নয়। তবে ঘাড়ে নতুন গাঁট দেখা দিলে, কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত বাড়তে থাকা ঘাড়ের ফোলা দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। সচেতনতা ও সময়মতো পরীক্ষা রোগ শনাক্তকরণ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।