মস্তিষ্কে টিউমারের লক্ষণ সব সময় সহজে বোঝা যায় না। কাজের চাপ, ঘুমের অভাব কিংবা দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে। তবে মাথাব্যথা আগের চেয়ে বাড়তে থাকলে, ব্যথার ধরন বদলে গেলে কিংবা এর সঙ্গে অন্য কোনো অস্বাভাবিক সমস্যা দেখা দিলে সতর্ক হওয়া জরুরি। যদিও বেশির ভাগ মাথাব্যথার কারণ মস্তিষ্কের টিউমার নয়, তবু অস্বাভাবিক উপসর্গ অবহেলা করা উচিত নয়।
মস্তিষ্কে টিউমার হলে কী ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, তা নির্ভর করে টিউমারের অবস্থান, আকার ও বৃদ্ধির ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার মাথাব্যথা হওয়া, ব্যথা ক্রমশ বাড়তে থাকা কিংবা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা বেশি অনুভূত হওয়া সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে। মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বমি ভাব বা বমি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে টিউমার হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।
মস্তিষ্কে টিউমারের লক্ষণ হিসেবে দৃষ্টিশক্তিতে পরিবর্তন, ঝাপসা দেখা কিংবা একটি বস্তুকে দুটি করে দেখার সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও কারও মাথা ঘোরে, হাঁটার সময় ভারসাম্য রাখতে অসুবিধা হয় অথবা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সমন্বয় নষ্ট হতে পারে। হাত-পায়ে দুর্বলতা বা অবশ ভাবও দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে গেলে বা কথা জড়িয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া দরকার।
এ ছাড়া কথা বলার সময় সঠিক শব্দ খুঁজে পেতে অসুবিধা, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা কিংবা আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। আগে কখনো খিঁচুনি হয়নি, এমন কারও প্রথমবার খিঁচুনি হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। এসব উপসর্গের পেছনে মস্তিষ্কের টিউমার ছাড়াও অন্য অনেক কারণ থাকতে পারে। তাই নিজের ধারণার ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের মাধ্যমে সমস্যার কারণ নির্ণয় করা জরুরি।
মাথাব্যথা দীর্ঘদিন থাকলে, আগের তুলনায় ঘন ঘন হলে কিংবা স্বাভাবিক চিকিৎসায় আরাম না মিললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কাশি, ঝুঁকে কাজ করা বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় মাথাব্যথা বেড়ে গেলেও বিষয়টি জানান। তবে হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে, প্রথমবার খিঁচুনি দেখা দিলে, কথা বলতে সমস্যা হলে কিংবা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নিন। এসব ক্ষেত্রে অপেক্ষা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
মনে রাখতে হবে, মাথাব্যথা হলেই মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে, এমন নয়। মাইগ্রেন, চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি ও অন্যান্য অসুস্থতার কারণেও একই ধরনের কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মস্তিষ্কে টিউমারের সন্দেহ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী শারীরিক ও স্নায়বিক পরীক্ষা এবং স্ক্যানের পরামর্শ দিতে পারেন। উপসর্গের পরিবর্তন খেয়াল রাখা, সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া এবং নিজে থেকে রোগ নির্ণয় না করাই সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন