নেত্রকোনার কলমাকান্দায় বিনামূল্যে চক্ষুসেবার মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার ৪০০ রোগী চিকিৎসা পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭০০ জনকে ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) কলমাকান্দা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যের চক্ষু শিবির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর মতে, মানুষের কল্যাণে সরকার ও রাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিনামূল্যে চক্ষুসেবা কার্যক্রমে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে ৭০০ জনকে ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য বাছাই করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ জনকে চশমা ও ওষুধ এবং আরও ১ হাজার ২০০ জনকে শুধু ওষুধ দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের এই উদ্যোগে এলাকার অসচ্ছল মানুষের চোখের চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, ছানি অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচিত রোগীদের পর্যায়ক্রমে কলমাকান্দা থেকে ময়মনসিংহে নেওয়া হবে। তাঁদের যাতায়াত, থাকা খাওয়া ও চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বিনামূল্যে বহন করা হবে। ফলে আর্থিক সংকটের কারণে যাঁরা চোখের চিকিৎসা করাতে পারছেন না, তাঁরা প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য কাজ করা নৈতিক দায়িত্ব। এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কোনো নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ নয়; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি মানবিক উদ্যোগ। গত দুই বছর ধরে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং এবার তৃতীয় বছরের মতো চক্ষু শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
কলমাকান্দার পাশাপাশি দুর্গাপুর, নাজিরপুর, লেংগুরা ও গাওকান্দিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায়ও এ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। গত বছর কলমাকান্দা ও দুর্গাপুরে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় দুই হাজার রোগীর চোখের ছানি বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল বলে জানান ডেপুটি স্পিকার।
কলমাকান্দা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আজাদ আয়নাল জানান, এবারের চক্ষু শিবিরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ডা. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ২৯ জন চিকিৎসক সেবা দিয়েছেন। এ ছাড়া এনএসপি থেকে দুজন এবং বিএএনএসবি থেকে ১৭ জন চিকিৎসক অংশ নেন।
চক্ষু শিবির পরিদর্শনকালে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনএম আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আল মামুন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামছুজ্জামান আসিফ, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিনামূল্যে চক্ষুসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে অসচ্ছল রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হওয়ায় স্থানীয় মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। বিশেষ করে ছানি অস্ত্রোপচারের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা বিনা খরচে পাওয়ার সুযোগ দৃষ্টিশক্তির সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন