৪৫তম বিসিএস গেজেটবঞ্চিত প্রার্থীরা সম্পূরক গেজেটে নাম অন্তর্ভুক্ত করে নিয়োগ দেওয়ার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তাঁরা নিজেদের নিয়োগের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে পুনরায় গেজেট প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা, আইনগত বাধা না থাকা প্রার্থীদের বিষয় পুনর্বিবেচনা করে সম্পূরক গেজেট প্রকাশ এবং গেজেট থেকে বাদ দেওয়ার কারণ লিখিতভাবে জানানো। পাশাপাশি আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সমস্যার সমাধানও দাবি করেন তাঁরা।

কর্মসূচিতে ৪৫তম বিসিএসে মৎস্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মনিরুজ্জামান জানান, কী কারণে তাঁকে গেজেট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাননি। দীর্ঘ কয়েক বছর পরিশ্রম করে বিসিএসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর নিয়োগ থেকে বাদ পড়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে জানান। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাদ পড়ার কারণ স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

মনিরুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে পড়াশোনা করেছেন তিনি। বিসিএসে সফল হওয়ার পরও নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা না পেলে ২৩ অক্টোবর ‘আত্মাহুতি’ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

গেজেটবঞ্চিত আরেক প্রার্থী ফেরদৌস খান বলেন, কোনো ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও তিনি নিয়োগের গেজেট থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁর অভিযোগ, এতে তিনি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। মেধার ভিত্তিতে অর্জিত চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

প্রার্থীরা জানান, গেজেট প্রকাশের পর তাঁদের সহকর্মীরা চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অথচ তাঁরা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। তাঁদের অধিকাংশই কৃষক ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বলে উল্লেখ করেন তাঁরা। এখন তাঁদের প্রত্যাশা, বাদ পড়ার কারণ জানিয়ে ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।