চুয়েটের শিক্ষার্থীদের বিশ্বজয়, ১২ সেকেন্ডে গড়লেন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ‘মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ ‘ওভারঅল এফিশিয়েন্সি’ বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের দল ‘চুয়েট সি’। মাত্র ১২ সেকেন্ডে সিমেন্ট, বালু ও পানির মিশ্রণ দিয়ে নির্ধারিত ছাঁচ পূর্ণ করে তারা প্রতিযোগিতায় নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দেয়। সব মিলিয়ে ৮৬ দশমিক ৫০ নম্বর পেয়ে এই সাফল্য অর্জন করে দলটি।

গত ১১ অক্টোবর এ প্রতিযোগিতায় চুয়েট শিক্ষার্থীদের বিশ্বজয়ের খবর আসে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের এই প্রতিযোগিতায় মিশ্রণ তৈরির গতি, কার্যকারিতা এবং উপাদানগুলোর স্থিতিশীলতা যাচাই করা হয়। এসব পরীক্ষায় ভালো ফল করে ‘চুয়েট সি’ নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরে।

প্রতিযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ছিল নির্দিষ্ট ছাঁচ দ্রুত পূর্ণ করা। ইংরেজিতে ‘এসিআই’ লেখা একটি ছাঁচে সিমেন্ট, বালু ও পানির মিশ্রণ ঢেলে যত কম সময়ে সম্ভব সেটি পূর্ণ করতে হতো। এই চ্যালেঞ্জে চুয়েটের দলটি মাত্র ১২ সেকেন্ডে কাজটি সম্পন্ন করে।

তবে শুধু দ্রুত ছাঁচ পূর্ণ করলেই প্রতিযোগিতায় সফল হওয়া সম্ভব ছিল না। মিশ্রণটির গুণগত বৈশিষ্ট্য ও স্থিতিশীলতাও পরীক্ষা করা হয়। এ জন্য প্রস্তুত মিশ্রণ একটি পরিমাপক সিলিন্ডারে রেখে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।

নির্ধারিত সময় পর পরীক্ষা করে দেখা হয়, মিশ্রণের পানি, বালু ও সিমেন্টজাতীয় উপাদান আলাদা হয়ে যাচ্ছে কি না। অর্থাৎ, মিশ্রণটি কতটা সমসত্ত্ব থাকছে, সেটিও ছিল মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পরীক্ষাতেও ভালো ফল করে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি মিশ্রণের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সক্ষমতা দলটির সামগ্রিক ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুটি পরীক্ষার ফলসহ প্রতিযোগিতার মূল্যায়নে ৮৬ দশমিক ৫০ নম্বর অর্জন করে ‘চুয়েট সি’। এর মাধ্যমে ‘ওভারঅল এফিশিয়েন্সি’ বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের স্বীকৃতি পায় দলটি।

‘মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন’ মূলত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মর্টার বা সিমেন্টভিত্তিক মিশ্রণের কার্যকারিতা ও ব্যবহারযোগ্যতা যাচাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের প্রতিযোগিতায় উপাদানের সঠিক অনুপাত, মিশ্রণ প্রস্তুতের দক্ষতা এবং মিশ্রণের বৈশিষ্ট্য বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। ফলে শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হয়।

চুয়েটের শিক্ষার্থীদের এই অর্জন দেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ ও দক্ষতা প্রদর্শনের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এমন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তবভিত্তিক সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং নির্মাণপ্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেন।

মাত্র ১২ সেকেন্ডে ছাঁচ পূর্ণ করা থেকে শুরু করে ২০ মিনিটের স্থিতিশীলতা পরীক্ষায় সফলতা দুই ধাপেই নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে ‘চুয়েট সি’। ৮৬ দশমিক ৫০ নম্বর নিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এই সাফল্য চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্মরণীয় অর্জন হয়ে থাকল।