হামের উপসর্গে মৃত্যু নিয়ে দেশে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৩৫ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ৩০৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। হামের উপসর্গে মৃত্যু ও নতুন সংক্রমণের এই চিত্র জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে দুজন ঢাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম ও খুলনায় একজন করে মারা গেছেন। বিভিন্ন অঞ্চলে মৃত্যুর এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
গত মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন আরও ১ হাজার ৯৭ জন। এই পরিসংখ্যান রোগটির প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরছে। তবে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হিসাব আলাদা বিষয়, তাই তথ্যগুলো বোঝার সময় এই পার্থক্য বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে ২৩ হাজার ১৫৭ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি দুই লাখ ১৪ হাজার ৫৫১ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ও উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের এই সংখ্যা রোগটি মোকাবিলায় সচেতনতা, সময়মতো শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে। হামের উপসর্গে মৃত্যু কমাতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা জরুরি।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত এক লাখ ৯০ হাজার ৬৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এক লাখ ৮৩ হাজার ৪২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া মানেই সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের শারীরিক অবস্থা এমন নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
হাম একটি সংক্রামক রোগ। জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, খেতে বা পান করতে না পারা কিংবা অস্বাভাবিক নিস্তেজতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। হাম প্রতিরোধে টিকাদান এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ। দেশের হালনাগাদ পরিস্থিতি জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুসরণ করা যেতে পারে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন