ফুটপাতে অবৈধ দোকান বসালে এবার মামলা ও মালামাল জব্দের মুখে পড়তে হবে এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, নির্ধারিত নিয়মের বাইরে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে দোকান বসালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ডিএসসিসির সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে বিশেষ মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক অবৈধ দোকান ও হকারের কারণে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের বিষয়টি তুলে ধরেন।
আবদুস সালাম বলেন, সড়কে যানজট, যত্রতত্র ময়লা ফেলা এবং পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টির পেছনে অবৈধ হকার ও ভাসমান দোকানের ভূমিকা রয়েছে। নগরবাসীকে এসব দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সড়ক ও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
নিউমার্কেট এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়েও ঘোষণা দিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে সেখানে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের ওপরও গুরুত্ব দেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। কোথাও যেন তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাজধানীর পরিবেশ রক্ষা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও যানজট কমাতে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং র্যালি অব্যাহত রাখার কথাও জানান তিনি।
এদিকে মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কার্যালয়ের সামনে থাকা সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও কথা বলেন প্রশাসক। তিনি জানান, সিআইডি কর্তৃপক্ষের অনুরোধে জনস্বার্থে এসটিএসটি স্থানান্তর করে সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ওই এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সচল রাখতে নতুন একটি এসটিএস নির্মাণের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি। চলতি মাসের মধ্যেই নির্মাণকাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি সিআইডি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়। পরে শান্তিনগর, কাকরাইল ও নয়াপল্টন হয়ে ফকিরাপুলে গিয়ে শেষ হয় কর্মসূচি। এ সময় প্রশাসক বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার এবং অবৈধ দোকান অপসারণের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও মশক নিধনকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও অংশ নেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাইকিং ও সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করা হয়।
সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএসসিসি। তবে ঘোষিত উচ্ছেদ অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা আগামী দিনের কার্যক্রমে স্পষ্ট হবে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন