কুয়াকাটা বিচ কার্নিভাল ঘিরে উৎসবের রঙে সেজেছে পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। বিচ ফুটবল, ঘুড়ি উৎসব, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা আয়োজনে মুখর হয়ে উঠেছে সৈকত এলাকা। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় ডিসি পার্ক-সংলগ্ন সৈকতের জিরো পয়েন্টে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে কার্নিভালের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী ৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উৎসব স্থানীয় পর্যটন শিল্পে নতুন গতি আনবে।
কুয়াকাটা বিচ কার্নিভাল উপলক্ষে শুক্রবার সকাল থেকেই সৈকত ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বেলা ১১টার দিকে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ, ছবি তোলা, গোসল ও বিভিন্ন খেলাধুলায় ব্যস্ত দেখা যায় পর্যটকদের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই এবং বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
কার্নিভালের অন্যতম আকর্ষণ বিচ ফুটবল প্রতিযোগিতা। শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেয় আটটি দল। বিকেলে লেম্বুর বনে আয়োজন করা হয় ঘুড়ি উৎসব ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যার পর তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে কনসার্টের আয়োজন রাখা হয়। শনিবারও দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি চলার কথা রয়েছে। বিচ ম্যারাথন, পুঁথিপাঠ, বাউল গান, ভলিবল, সেলিব্রিটি বিচ ক্রিকেট, ফ্যাশন শো ও আতশবাজি প্রদর্শনীর মতো আয়োজন কার্নিভালে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে।
কুয়াকাটা বিচ কার্নিভাল ঘিরে সৈকতের পাশাপাশি ঝাউবাগান, লেম্বুর বন, গঙ্গামতি ও লাল কাঁকড়ার চরেও পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আসা বিভিন্ন বয়সি মানুষ সমুদ্রের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ সৈকতে সময় কাটাচ্ছেন, কেউ স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরে রাখছেন। উৎসবের নানা আয়োজন ভ্রমণকে আরও আনন্দময় করে তুলেছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এমন অনুষ্ঠান কুয়াকাটার পরিচিতি বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের পর্যটন খাতের বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কুয়াকাটার আবাসিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোর অধিকাংশ কক্ষ আগেই বুকিং হয়ে গেছে। ফলে আগাম বুকিং ছাড়া আসা কিছু পর্যটককে থাকার জায়গা খুঁজতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এদিকে পর্যটকদের ভিড়ের সুযোগে কিছু হোটেলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং খাবার ও পরিবহণে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে আবাসন বুকিং, ভাড়া ও অন্যান্য খরচ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে শেষ মুহূর্তের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৭০০ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ, নৌ-পুলিশ, থানা-পুলিশ এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কার্নিভালের মাধ্যমে পর্যটকদের বিনোদনের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙা হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ পরিবেশ ও মানসম্মত সেবার সমন্বয় ঘটলে কুয়াকাটা বিচ কার্নিভাল ভবিষ্যতে আরও বড় পর্যটন উৎসবে পরিণত হতে পারে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন