চন্দনাইশ প্রতিনিধিঃ মো. নুরুল আলম
চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ উপজেলার বাগিচাহাটের উত্তর পাশে খানদিঘী শিকারী পাড়া এলাকায় যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ভোর রাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী কলেজ ছাত্র জালাল উদ্দীন বাবু ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সৌদিয়া পরিবহনের (চট্ট মেট্রো-ব ১১-১১৭০) হলুদ রঙের দূরপাল্লার বাসটি ঢাকা থেকে কক্সবাজারমুখী যাওয়ার পথে উপজেলার বাগিচাহাট খানদিঘী শিকারী পাড়া এলাকায় পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে উল্টে যায়। উল্টে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাসের সামনের গ্লাস ও জানালার কাচ ভেঙে সড়কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন।
বাসে থাকা ২০-২৫ জন যাত্রী আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও দোহাজারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

ভোরে দুর্ঘটনার পর বাসটি মহাসড়ক জুড়ে পড়ে থাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাইকিং করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। পরে রেকার ও ক্রেন দিয়ে বাসটি টেনে সরানো হয়। এসময় ৩০-৪০ জন স্থানীয় যুবক পুলিশকে সহায়তা করে বাসটি সোজা করার চেষ্টা করেন।
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের ওই অংশে পর্যাপ্ত আলো নেই এবং সামান্য বাঁক রয়েছে। ভোর রাতে দূরপাল্লার বাসগুলো বেপরোয়া গতিতে চলায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা গতি নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, “ভোরে বাগিচাহাটে একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যাওয়ার খবর পেয়ে আমাদের টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি উদ্ধার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন