স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ছিটমহল সিউটায় সাম্প্রতিক অভিবাসী সংকটের মধ্যেই ১৫টি সম্ভাব্য যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ ও সিভিল গার্ড। এসব অভিযোগের কয়েকটিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা ভুক্তভোগী বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি ঘটনায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুর বিষয়ও সামনে এসেছে।
ঘটনাগুলো ৩০ জুলাইয়ের ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের পর সামনে আসে। ওই সময় মরক্কো থেকে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ সিউটায় প্রবেশ করেছিল বলে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রবেশে শহটির নিরাপত্তা, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।
স্প্যানিশ নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগ প্রতিটি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্ত করছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে অন্তত দুই সন্দেহভাজনকে আটকের কথা বলা হয়েছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে তিন মরক্কীয় অভিবাসীর বিরুদ্ধে পৃথক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্তের তথ্য পাওয়া গেছে; তাদের মধ্যে দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং একজনকে মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অভিবাসী প্রবেশের পর সিউটার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বেড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হাজার হাজার অভিবাসী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্কও সেখানে রয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য আলাদা আশ্রয় ও সুরক্ষার ব্যবস্থা করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
এদিকে সিউটায় থাকা অভিবাসীদের একটি অংশ আশ্রয়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। রোববার শহরের জনপ্রিয় এল ট্রাম্পোলিন সৈকতে শত শত অভিবাসী জড়ো হয়ে স্পেনের কাছে আশ্রয় দেওয়ার দাবি জানান। তাদের হাতে ‘আমরা মরক্কোতে ফিরতে চাই না’ লেখা ব্যানারও দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীরা সেখানে কঠিন জীবনযাপন, ঠান্ডা আবহাওয়া এবং চলাচলের ওপর পুলিশের বিধিনিষেধ নিয়ে অভিযোগ করেন। অন্যদিকে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অধিকাংশ অভিবাসীর স্পেনে বৈধ অবস্থান বা মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার সুযোগ থাকবে না, যদিও বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আলাদা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
সিউটার পরিস্থিতি নিয়ে মানবিক ও নিরাপত্তা—দুই ধরনের উদ্বেগই বাড়ছে। তবে কোনো অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো অভিবাসী জনগোষ্ঠীকে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়—এমন সতর্কতাও বিভিন্ন পক্ষ থেকে এসেছে। স্পেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও অভিবাসন সংকটকে মানবিক ও জনস্বাস্থ্যগত চাপ হিসেবে দেখছে এবং অভিবাসীদের সঙ্গে অপরাধ বা রোগের সরাসরি সাধারণীকরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে স্পেন ও মরক্কো উভয় দেশই সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। নতুন করে ব্যাপক অভিবাসী প্রবেশের আশঙ্কায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, সমুদ্রপথে নজরদারি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
























