রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে বিরল প্রজাতির ‘হোয়াইট-বার্ড কুকরি’ (White-barred Kukri) সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কেপিএম ১ নম্বর গেইটের নিরাপত্তা অফিস এলাকা থেকে সাপটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার কেপিএম ১ নম্বর গেইটের নিরাপত্তা অফিস এলাকায় সাপটি দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা। পরে বিষয়টি জানানো হলে ‘ওয়াইল্ড স্নেক রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ’-এর কাপ্তাই ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন ঘটনাস্থলে যান।
তিনি সেখানে গিয়ে সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকারী ইমরান হোসেন ইমন জানান, সাপটি ‘পাকড়া উদয়কাল’ বা White-barred Kukri নামে পরিচিত। এটি একটি নির্বিষ সাপ। বিরল প্রজাতির হওয়ায় উদ্ধার করার পর সাপটিকে বর্তমানে নিরাপদে তার হেফাজতে রাখা হয়েছে।
ইমরান হোসেন ইমন আরও জানান, উপযুক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তীতে সাপটি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর বন বিভাগের মাধ্যমে সাপটিকে তার উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার ব্যবস্থা করা হবে।
বিশেষজ্ঞ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে, লোকালয়ে বিভিন্ন প্রজাতির সাপের উপস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। তবে সাপ দেখলেই সেটিকে বিষধর মনে করে হত্যা করা উচিত নয়। অনেক প্রজাতির সাপ মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
উদ্ধারকারী দলের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। লোকালয়ে এ ধরনের সাপ দেখা গেলে সেটিকে ধরতে বা মারতে না গিয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী দল অথবা বন বিভাগকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কাপ্তাই ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বনাঞ্চল থাকায় সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। মাঝে মাঝে এসব প্রাণী খাবার, আশ্রয় বা অন্য কোনো কারণে লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল আচরণ বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
























