ঢাকা ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo কক্সবাজারে চলন্ত এসি বাসে আগুন, জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার Logo বিতর্ক কর্মশালা: যুক্তির শক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ বার্তা Logo ভাটারা সড়ক দুর্ঘটনা: ৩২ বছরের সাজ্জাদের মর্মান্তিক মৃত্যু Logo মেকআপ করা কি সত্যিই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর জানুন আসল তথ্য Logo বার সাবান নাকি বডি ওয়াশ ত্বকের জন্য কোনটি ভালো Logo দ্য অডিসি: দুর্দান্ত আয়ে ভাঙল R-rated সিনেমার রেকর্ড Logo ফেরদৌস স্টিলে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু কারণ অনুসন্ধানে মিলল বিষাক্ত গ্যাস Logo অর্পিতার রেস্তোরাঁয় চমকপ্রদ দাম, মাছ ১০ হাজার থেকে পানীয় লাখে Logo জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, বড় উদ্যোগে রুখবে পাহাড় দখল Logo সালমান শাহকে ঘিরে ভক্তদের আবেগের গল্প নিয়ে নির্মিত ‘লাভ ৯৬’

কক্সবাজারে চলন্ত এসি বাসে আগুন, জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০১

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের এসি বাসে আগুন। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি চলন্ত এসি বাসে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রামুর কলঘর বাজারের পশ্চিমপাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কের ওপর মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, আগুন লাগার সময় বাসটিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো যাত্রী অবস্থান করছিলেন। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে বাসের ভেতরে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চিৎকার শুরু হয়। গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে অনেকেই জীবন বাঁচানোর আকুতি জানাতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর বাসের যাত্রীরা যখন দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করছিলেন, তখন স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। বাসের দরজা দিয়ে বের হওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাসের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের একে একে নিরাপদে বের করে আনেন। স্থানীয়দের এই সাহসী পদক্ষেপের কারণেই মূলত যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যান।

খবর পেয়ে রামু হাইওয়ে থানার পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে সক্ষম হন। কাছাকাছি অবস্থানে টহলে থাকায় দ্রুত সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি তারাও যাত্রীদের বাস থেকে উদ্ধারে অংশ নেন।

যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনার পাশাপাশি তাদের মূল্যবান মালামাল ও লাগেজগুলোও বাসের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে যার যার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয় এবং তারা এসে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বাসের ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সঠিক সময়ে আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়।

তবে এই বিপদের মুহূর্তে বাসটির চালক ও হেল্পারের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পরপরই যাত্রীদের বিপদে ফেলে চালক ও হেল্পার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এই ঘটনার পর সড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, তবে পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে চলন্ত এসি বাসে আগুন, জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার

কক্সবাজারে চলন্ত এসি বাসে আগুন, জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের উদ্ধার

Update Time : ০২:৪৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি চলন্ত এসি বাসে হঠাৎ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রামুর কলঘর বাজারের পশ্চিমপাশে এন আলম ফিলিং স্টেশনের সামনের সড়কের ওপর মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় জনতা, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত হস্তক্ষেপের কারণে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

জানা গেছে, আগুন লাগার সময় বাসটিতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের মতো যাত্রী অবস্থান করছিলেন। চলন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে বাসের ভেতরে ধোঁয়া ও আগুন ছড়িয়ে পড়লে যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও চিৎকার শুরু হয়। গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে অনেকেই জীবন বাঁচানোর আকুতি জানাতে থাকেন।

আরও পড়ুন  বগুড়ায় চলন্ত বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর বাসের যাত্রীরা যখন দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করছিলেন, তখন স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে আসেন। বাসের দরজা দিয়ে বের হওয়া সম্ভব না হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে বাসের জানালার কাচ ভেঙে যাত্রীদের একে একে নিরাপদে বের করে আনেন। স্থানীয়দের এই সাহসী পদক্ষেপের কারণেই মূলত যাত্রীরা প্রাণে বেঁচে যান।

খবর পেয়ে রামু হাইওয়ে থানার পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হতে সক্ষম হন। কাছাকাছি অবস্থানে টহলে থাকায় দ্রুত সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি তারাও যাত্রীদের বাস থেকে উদ্ধারে অংশ নেন।

আরও পড়ুন  ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে বড় পরিবর্তন: নতুন নিয়মে সহজ হবে আবেদন

যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনার পাশাপাশি তাদের মূল্যবান মালামাল ও লাগেজগুলোও বাসের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে যার যার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয় এবং তারা এসে পুরোপুরি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

রামু ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. আবদুল কাদের চৌধুরী অগ্নিকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বাসের ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। সঠিক সময়ে আগুন নেভানো সম্ভব হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন  নিউইয়র্কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা, তিন বাংলাদেশিসহ নিহত ৪

তবে এই বিপদের মুহূর্তে বাসটির চালক ও হেল্পারের ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। যাত্রীদের অভিযোগ, আগুন লাগার পরপরই যাত্রীদের বিপদে ফেলে চালক ও হেল্পার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তাদের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এই ঘটনার পর সড়কে বেশ কিছু সময় যান চলাচল বিঘ্নিত হয়, তবে পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।