ঢাকা ০৫:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo রূপপুরে জ্বালানি লোডিংয়ের অনুমোদন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় অগ্রগতি Logo ঢাকা আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস জে. হার্ডার, গুরুত্ব পাবে শিশু কল্যাণ ও শিক্ষা Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় ৮ নিহত, দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত Logo কক্সবাজারে বৃষ্টির ধাক্কা, কম দামে বিপাকে ৪২ হাজার লবণচাষি Logo ইন্দোনেশিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ৮ আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু Logo শিশুর শরীরে কালো দাগ কেন হয়? অ্যাকাথোসিস নিগ্রিক্যানস ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি জানুন Logo আয়োকিগাহারা ফরেস্ট: জাপানের রহস্যময় ‘সুইসাইড ফরেস্ট’ এর অজানা সত্য Logo মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার ইঙ্গিতে তেলের দামে নিম্নগতি Logo ইরানের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্পের ইঙ্গিত

মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন: জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০১:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০৬

চিত্রঃ জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বেই আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষিত হচ্ছে। এতে করে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে নিয়মনীতি রয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। এতে করে সংঘাত আরও গভীর হচ্ছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ছে।

মহাসচিবের মতে, বর্তমান বিশ্বে যে ধরনের সংঘাত চলছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা প্রকাশ করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা প্রসঙ্গে গুতেরেস আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। এই সম্ভাব্য আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং উত্তেজনা কমানোর দিকে এগোবে। এছাড়া ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনা নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি উন্নয়নে এই আলোচনা অত্যন্ত জরুরি এবং তা অব্যাহত রাখা উচিত।

তার মতে, এই ধরনের সংলাপই দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে। যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সম্পর্কে গুতেরেস স্পষ্টভাবে বলেন, এর কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। বরং সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আস্থার ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তা অবশ্যই কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে এবং শান্তির সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়। মহাসচিবের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই বিষয়গুলোতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে সংকটগুলো চলছে, তা একক কোনো দেশের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আন্তরিক উদ্যোগ।

গুতেরেস আরও উল্লেখ করেন, মানবিক দিক বিবেচনায় এই সংকটগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। লাখ লাখ মানুষ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, যাতে তারা মানবিক সহায়তা বাড়ায় এবং সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, শান্তির কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজাই একমাত্র পথ। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জে পানির ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন: জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা

Update Time : ০১:৪১:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সারা বিশ্বেই আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষিত হচ্ছে। এতে করে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে যে নিয়মনীতি রয়েছে, তা অনেক ক্ষেত্রেই মানা হচ্ছে না। এতে করে সংঘাত আরও গভীর হচ্ছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হয়ে পড়ছে।

মহাসচিবের মতে, বর্তমান বিশ্বে যে ধরনের সংঘাত চলছে, তা আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি স্পষ্ট অবজ্ঞা প্রকাশ করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন দুটোই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা উত্তেজনা প্রসঙ্গে গুতেরেস আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। এই সম্ভাব্য আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি শান্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল আচরণ করবে এবং উত্তেজনা কমানোর দিকে এগোবে। এছাড়া ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনা নিয়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি উন্নয়নে এই আলোচনা অত্যন্ত জরুরি এবং তা অব্যাহত রাখা উচিত।

তার মতে, এই ধরনের সংলাপই দীর্ঘমেয়াদে শান্তি প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করে। যেকোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ায়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট সম্পর্কে গুতেরেস স্পষ্টভাবে বলেন, এর কোনো সামরিক সমাধান নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ কখনোই স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না। বরং সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান এবং আস্থার ভিত্তিতে সমাধান খুঁজতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলে তা অবশ্যই কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তোলে এবং শান্তির সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দেয়। মহাসচিবের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই বিষয়গুলোতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা। শুধু বক্তব্য দিয়ে নয়, বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যে সংকটগুলো চলছে, তা একক কোনো দেশের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং আন্তরিক উদ্যোগ।

গুতেরেস আরও উল্লেখ করেন, মানবিক দিক বিবেচনায় এই সংকটগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ। লাখ লাখ মানুষ এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং তাদের জীবন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানান, যাতে তারা মানবিক সহায়তা বাড়ায় এবং সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেয়। শেষ পর্যন্ত তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, শান্তির কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান করা এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজাই একমাত্র পথ। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান এবং বিশ্বশান্তি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।