ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা মার্কিন শুল্ককে ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। শুক্রবার (২১ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। একই সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।
ব্রাজিল সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ও লুলার মধ্যে ফোনালাপ চলে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট। আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে। লুলা বলেন, ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত শুধু ব্রাজিলের জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে ট্রাম্পও একমত হয়েছেন। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শিগগিরই আবার বৈঠকে বসার প্রস্তাব এসেছে। এতে করে শুল্ক নিয়ে দুই দেশের মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে কমানোর একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র কিছু ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে অন্যায্য বাণিজ্যনীতির অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পাশাপাশি জোরপূর্বক শ্রমসংক্রান্ত আইন প্রয়োগে শিথিলতার অভিযোগে আরও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্রাজিলের পক্ষ থেকে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
ফোনালাপে শুধু মার্কিন শুল্ক নয়, সংগঠিত অপরাধ দমন নিয়েও আলোচনা করেন লুলা ও ট্রাম্প। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে ব্রাজিলে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে তুলনা না করার আহ্বান জানান তিনি। মে মাসে ওয়াশিংটন এমন দুটি অপরাধী চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমা দিয়েছিল।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। বিভিন্ন ক্ষেত্রে আগে সম্পাদিত চুক্তিগুলোর অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ফলে শুল্ক ইস্যুতে মতবিরোধ থাকলেও দুই দেশের বাণিজ্য ও অন্যান্য সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সচল রাখার চেষ্টা চলছে।



























