বিটরুট দিয়ে তৈরি ফারমেন্টেড পানীয় বিট কেভাস। বিট, পানি ও লবণ দিয়ে এটি তৈরি করা হয় এবং কয়েকদিন ফারমেন্টেশনের পর পান করা হয়। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে পানীয়টি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হলেও এর সব ধরনের স্বাস্থ্য উপকারিতা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি।
বিট কেভাস কী?
বিট কেভাস হলো বিটরুট দিয়ে তৈরি একটি ফারমেন্টেড পানীয়। বিটরুট ছোট টুকরো করে পানি ও লবণের সঙ্গে রেখে ফারমেন্ট করা হয়। ফারমেন্টেশনের সময় বিভিন্ন অণুজীব কাজ করে পানীয়টির স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে।
তবে ফারমেন্টেড হলেই কোনো পানীয়কে নিশ্চিতভাবে প্রোবায়োটিক বলা যায় না। নির্দিষ্ট জীবাণুর নির্দিষ্ট স্ট্রেন এবং তার স্বাস্থ্য উপকারিতার প্রমাণ থাকলেই সেটিকে প্রোবায়োটিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বিট কেভাসে কেন আগ্রহ বাড়ছে?
বিটরুটে নাইট্রেট, ফোলেট, পটাশিয়াম ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ বেশ কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ করে বিটরুটের নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, যা রক্তনালির প্রসারণে সহায়তা করে।
রক্তচাপের ওপর প্রভাব
বিটরুট জুস নিয়ে করা কয়েকটি গবেষণায় রক্তচাপ কমানোর সম্ভাব্য উপকার পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সিস্টোলিক রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক ফল দেখা গেছে। তবে এসব গবেষণা মূলত বিটরুট জুস নিয়ে, বিট কেভাস নিয়ে নয়।
তাই বিট কেভাসকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
গাট হেলথের সঙ্গে সম্পর্ক
ফারমেন্টেড খাবার ও পানীয় নিয়ে গাট হেলথের ক্ষেত্রে আগ্রহ রয়েছে। ফারমেন্টেশনের সময় তৈরি হওয়া অণুজীব ও অন্যান্য উপাদান হজমতন্ত্রের জন্য ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিট কেভাস নিয়মিত পান করলেই গাটের সব সমস্যা দূর হবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ত্বকের জন্য কতটা উপকারী?
বিটরুটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিট কেভাস পান করলেই ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে, ব্রণ বা অন্য ত্বকের সমস্যা দূর হবে—এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দুর্বলতা দূর করে কি?
বিটরুটের নাইট্রেট শারীরিক কর্মক্ষমতার ক্ষেত্রে কিছু ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। কিন্তু শরীরের দুর্বলতার নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে বিট কেভাসকে বিবেচনা করা যায় না। দীর্ঘদিন দুর্বলতা থাকলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
কীভাবে তৈরি করবেন?
- বিটরুট ভালোভাবে ধুয়ে ছোট টুকরো করে নিন।
- পরিষ্কার কাঁচের জারে বিটরুট রাখুন।
- পানির সঙ্গে উপযুক্ত পরিমাণ লবণ মিশিয়ে দিন।
- পরিষ্কার পরিবেশে ফারমেন্টেশনের জন্য রেখে দিন।
- ফারমেন্টেশনের পর নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করে পান করুন।
সতর্কতা জরুরি
ঘরে তৈরি ফারমেন্টেড পানীয় তৈরির সময় পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গন্ধ, অস্বাভাবিক রং বা ছত্রাক দেখা দিলে সেটি পান করা উচিত নয়। যাদের কোনো নির্দিষ্ট রোগ আছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন, তারা খাদ্যতালিকায় বিট কেভাস যোগ করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
সবশেষে, বিট কেভাসকে স্বাস্থ্যকর খাবারের একটি অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এটি কোনো রোগ সারানোর পানীয় নয়। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, পানি পান ও নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।


























