ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এসইএল: আবাসন খাতে আস্থা ও মানের দীর্ঘ যাত্রা Logo বিএটিবিসির সিগারেট বিক্রি বেড়েছে, তিন মাসে ১৪,৫৬৩ কোটি টাকা Logo আজকের বিনিময় হার: বেড়েছে ডলারের দাম, কমেছে ইউরো ও পাউন্ড Logo সিঙ্গার বাংলাদেশে দারুণ প্রত্যাবর্তন, লোকসান কাটিয়ে মুনাফায় ফিরল Logo ১৯ বছরেই বাবা হচ্ছেন এনদ্রিক, ছেলের নাম নিয়ে চমক Logo রঙের বাজারে দারুণ উত্থান: ৬৫০০ কোটি টাকার শিল্পে নতুন সম্ভাবনা Logo ইত্যাদি লক্ষ্মীপুর: দারুণ আয়োজনে ফিরছে হানিফ সংকেতের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান Logo মেসির পারিবারিক ইতিহাসে বড় চমক, পূর্বপুরুষদের খোঁজ মিলল ব্রাজিলে Logo বিসিবির কোচ নিয়োগ পরীক্ষায় ২১৮ জনে মধ্যে পাস মাত্র ২০ জন Logo পাতার বাঁশরি গান: হৃদয়ছোঁয়া প্রেমের নতুন সুর কোক স্টুডিও বাংলায়

মেসির পারিবারিক ইতিহাসে বড় চমক, পূর্বপুরুষদের খোঁজ মিলল ব্রাজিলে

লিওনেল মেসি। ছবি : সংগৃহীত

লিওনেল মেসির পরিবারের সঙ্গে ব্রাজিলের একটি ঐতিহাসিক সংযোগ ছিল বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ইতালীয় ইতিহাসবিদ ও বংশানুক্রম গবেষক ফিওরেনজো সান্তিনির তিন বছরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেসির মায়ের পক্ষের পূর্বপুরুষরা আর্জেন্টিনায় যাওয়ার আগে কয়েক বছর ব্রাজিলে বসবাস করেছিলেন। এমনকি তার এক প্রপিতামহের জন্মও হয়েছিল ব্রাজিলের মাটিতে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৯৯ সালে মেসির মাতৃপক্ষের প্রপিতামহ রানিয়েরি কোচ্চেত্তিনি ও তার স্ত্রী রোসা রিচ্চেজ্জা ইতালি থেকে ‘ওয়াশিংটন’ নামের একটি জাহাজে করে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। উন্নত জীবনের আশায় তারা দক্ষিণ আমেরিকায় পাড়ি জমান। পরে তারা সাঁও পাওলো অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।

ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পরিবারটি সাঁও পাওলোর রিনকাও অঞ্চলের একটি খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। সে সময় ইউরোপ থেকে আসা বহু অভিবাসী কৃষি খামারে কাজের সুযোগ পেতেন। কোচ্চেত্তিনি পরিবারও সেই ধারার অংশ ছিল। কয়েক বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস ও কাজ করেন।

গবেষণায় আরও জানা গেছে, ১৯০৪ সালে সাঁও পাওলোর রিবেরাও প্রেতো শহরে মেসির প্রপিতামহ আর্দেরিগো কোচ্চেত্তিনির জন্ম হয়। এই তথ্যই মেসির পরিবারের সঙ্গে ব্রাজিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক যোগসূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তার জন্মের অল্প সময় পরই পরিবারের ভাগ্যে নতুন মোড় আসে।

আর্দেরিগোর জন্মের এক বছর পর, ১৯০৫ সালে পুরো পরিবারটি ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। পরবর্তীতে এই রোজারিও শহরেই জন্মগ্রহণ করেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। সেই অর্থে ব্রাজিলে তাদের অবস্থান ছিল স্বল্প সময়ের হলেও পারিবারিক ইতিহাসে তা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

সান্তিনির গবেষণায় আরেকটি মজার তথ্যও উঠে এসেছে। ব্রাজিলে অবস্থানের সময় স্থানীয় নথিপত্রে ভুলের কারণে পরিবারের মূল ইতালীয় পদবি ‘কোচ্চেত্তিনি’ পরিবর্তিত হয়ে ‘কুচ্চিত্তিনি’ হয়ে যায়। শুধু পদবিই নয়, আর্দেরিগোর নামও কিছু নথিতে ‘ফেদেরিকো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে পরিবর্তিত এই ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবিটিই মেসির মায়ের বংশধরদের মাধ্যমে পরিবারের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। গবেষণাটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ইতিহাসের ভিন্ন মোড়ে দাঁড়ালে হয়তো মেসির সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারত।

তবে বাস্তবতা হলো, ১৯০৫ সালে আর্জেন্টিনায় চলে যাওয়ার পর কোচ্চেত্তিনি পরিবারের আর কোনো সদস্য ব্রাজিলে স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি। বর্তমানে রিবেরাও প্রেতোর একটি রাস্তার নাম ‘মার্তিনিকো প্রাডো’, যিনি একসময় মেসির পূর্বপুরুষদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। এই নামটিই এখন সেই শহরের সঙ্গে মেসি পরিবারের একমাত্র দৃশ্যমান ঐতিহাসিক সংযোগ হিসেবে রয়ে গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এসইএল: আবাসন খাতে আস্থা ও মানের দীর্ঘ যাত্রা

মেসির পারিবারিক ইতিহাসে বড় চমক, পূর্বপুরুষদের খোঁজ মিলল ব্রাজিলে

Update Time : ১২:১৭:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসির পরিবারের সঙ্গে ব্রাজিলের একটি ঐতিহাসিক সংযোগ ছিল বলে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ইতালীয় ইতিহাসবিদ ও বংশানুক্রম গবেষক ফিওরেনজো সান্তিনির তিন বছরের অনুসন্ধানে জানা গেছে, মেসির মায়ের পক্ষের পূর্বপুরুষরা আর্জেন্টিনায় যাওয়ার আগে কয়েক বছর ব্রাজিলে বসবাস করেছিলেন। এমনকি তার এক প্রপিতামহের জন্মও হয়েছিল ব্রাজিলের মাটিতে।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮৯৯ সালে মেসির মাতৃপক্ষের প্রপিতামহ রানিয়েরি কোচ্চেত্তিনি ও তার স্ত্রী রোসা রিচ্চেজ্জা ইতালি থেকে ‘ওয়াশিংটন’ নামের একটি জাহাজে করে ব্রাজিলের সান্তোস বন্দরে পৌঁছান। উন্নত জীবনের আশায় তারা দক্ষিণ আমেরিকায় পাড়ি জমান। পরে তারা সাঁও পাওলো অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।

আরও পড়ুন  ভিনিসিয়ুসের স্বীকারোক্তি, আমাদের অনেক উন্নতি করতে হবে

ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর পরিবারটি সাঁও পাওলোর রিনকাও অঞ্চলের একটি খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে। সে সময় ইউরোপ থেকে আসা বহু অভিবাসী কৃষি খামারে কাজের সুযোগ পেতেন। কোচ্চেত্তিনি পরিবারও সেই ধারার অংশ ছিল। কয়েক বছর ধরে তারা সেখানে বসবাস ও কাজ করেন।

গবেষণায় আরও জানা গেছে, ১৯০৪ সালে সাঁও পাওলোর রিবেরাও প্রেতো শহরে মেসির প্রপিতামহ আর্দেরিগো কোচ্চেত্তিনির জন্ম হয়। এই তথ্যই মেসির পরিবারের সঙ্গে ব্রাজিলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক যোগসূত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে তার জন্মের অল্প সময় পরই পরিবারের ভাগ্যে নতুন মোড় আসে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের প্যানেল থেকে বাদ পড়া রেফারির রহস্যজনক মৃত্যু

আর্দেরিগোর জন্মের এক বছর পর, ১৯০৫ সালে পুরো পরিবারটি ব্রাজিল ছেড়ে আর্জেন্টিনার রোজারিও শহরে চলে যায়। পরবর্তীতে এই রোজারিও শহরেই জন্মগ্রহণ করেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। সেই অর্থে ব্রাজিলে তাদের অবস্থান ছিল স্বল্প সময়ের হলেও পারিবারিক ইতিহাসে তা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

সান্তিনির গবেষণায় আরেকটি মজার তথ্যও উঠে এসেছে। ব্রাজিলে অবস্থানের সময় স্থানীয় নথিপত্রে ভুলের কারণে পরিবারের মূল ইতালীয় পদবি ‘কোচ্চেত্তিনি’ পরিবর্তিত হয়ে ‘কুচ্চিত্তিনি’ হয়ে যায়। শুধু পদবিই নয়, আর্দেরিগোর নামও কিছু নথিতে ‘ফেদেরিকো’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

পরবর্তীতে পরিবর্তিত এই ‘কুচ্চিত্তিনি’ পদবিটিই মেসির মায়ের বংশধরদের মাধ্যমে পরিবারের পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে। গবেষণাটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মজা করে বলছেন, ইতিহাসের ভিন্ন মোড়ে দাঁড়ালে হয়তো মেসির সঙ্গে ব্রাজিলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হতে পারত।

আরও পড়ুন  কেপ ভার্দে ম্যাচের আগে স্কালোনির তিন দুশ্চিন্তা, ফিরছেন মেসি?

তবে বাস্তবতা হলো, ১৯০৫ সালে আর্জেন্টিনায় চলে যাওয়ার পর কোচ্চেত্তিনি পরিবারের আর কোনো সদস্য ব্রাজিলে স্থায়ীভাবে বসবাস করেননি। বর্তমানে রিবেরাও প্রেতোর একটি রাস্তার নাম ‘মার্তিনিকো প্রাডো’, যিনি একসময় মেসির পূর্বপুরুষদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। এই নামটিই এখন সেই শহরের সঙ্গে মেসি পরিবারের একমাত্র দৃশ্যমান ঐতিহাসিক সংযোগ হিসেবে রয়ে গেছে।