রাজধানীতে ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগের জটিলতা কমাতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদনকারীকে আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে হবে না। নির্দিষ্ট একটি জায়গায় আবেদন করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়ার ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংস্থার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এসব দপ্তরের অনুমোদন নিতে গিয়ে আবেদনকারীদের সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই প্রক্রিয়াকে সহজ ও সময়সীমাবদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল সাংবাদিকদের জানান, রাজউকের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মন্ত্রী ও রাজউকের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে একটি জায়গায় আবেদন গ্রহণ করে দ্রুত নকশা অনুমোদনের ব্যবস্থা করার লক্ষ্য রয়েছে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে অযথা মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনের মাধ্যমে কাজের যৌক্তিকতা যাচাই করবে।
শেখ মজিবুর রহমান বলেন, কোনো প্রকল্পে অনিয়ম, অস্বচ্ছতা বা দুর্নীতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অযথা প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময় ও ব্যয়ের মধ্যে শেষ করার বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে রাজধানীর আবাসন সংকট এবং সাধারণ মানুষের জন্য তুলনামূলক কম দামে ফ্ল্যাটের সুযোগ তৈরির বিষয়টিও উঠে আসে। বিদ্যমান নগর বিধিমালার কিছু জটিলতার কারণে আবাসন খাতের বিভিন্ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানানো হয়।
বিশেষ করে ফ্লোর এরিয়া রেশিও (FAR) নিয়ে জটিলতার কারণে অনেক ভূমি উন্নয়নকারী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানান শেখ মজিবুর রহমান।
তিনি আরও জানান, ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বিধিমালা এবং নগর গৃহায়ণ বিধিমালা—এই দুটি বিধিমালাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে। সংশোধিত বিধিমালা কার্যকর হলে আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাটের সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের তুলনামূলক কম দামে ফ্ল্যাট পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে তিনি জানান।
রাজধানীতে অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্ধের বিষয়েও সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করলেও যারা নকশা অনুমোদন নেননি, তাদের নির্দিষ্ট জরিমানা বা শাস্তির আওতায় এনে রাজউকের বিধি অনুযায়ী বৈধ করার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
এর মাধ্যমে একদিকে অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যদিকে নগর পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবন ব্যবস্থাপনা করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।




























