ঢালিউডের খল অভিনেতা শিবা শানু নতুন দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে। এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। তবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির পদ ছাড়তে হতে পারে তাঁকে। ফলে অভিনয়জীবনের পাশাপাশি তাঁর সাংগঠনিক দায়িত্বেও আসতে যাচ্ছে পরিবর্তন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে শিবা শানুর নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। বাংলাদেশ শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০০১-এর ১২(২) ধারা অনুসারে তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন দায়িত্বে শিবা শানু অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদায় গ্রেড-২ অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। চুক্তিভিত্তিক এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাঁর দায়িত্ব পালনের আনুষ্ঠানিক শর্তগুলোও চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
তবে এই নিয়োগের ক্ষেত্রে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হলে শিবা শানুকে অন্য যেকোনো পেশা ও ব্যবসা থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা সংগঠনের সঙ্গে তাঁর বিদ্যমান কর্মসম্পর্কও ত্যাগ করতে হবে। এ শর্তের কারণে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্বে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন শিবা শানু। ফলে শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি হিসেবে যোগ দিলে সমিতির সভাপতির পদে তাঁর থাকা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো নিজের সিদ্ধান্ত জানাননি অভিনেতা। তিনি সভাপতির পদ ছাড়বেন কি না, সেটি নির্ভর করছে তাঁর পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
শিবা শানু দীর্ঘদিন ধরে ঢালিউডে খল অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। বড় পর্দায় অনিয়মিত হয়ে পড়লেও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন তিনি। নতুন এই নিয়োগ তাঁর পেশাগত জীবনে ভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালনের সুযোগ তৈরি করেছে। অভিনয়ের বাইরে এবার শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করার প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।
চৌধুরী মাজহার আলী নামের এই অভিনেতা ১৯৯৮ সালে ‘মাতৃভূমি’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে প্রায় পাঁচশ সিনেমায় কাজ করেছেন বলে জানা যায়। চলচ্চিত্রে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।
বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সময় দিচ্ছেন শিবা শানু। শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তাঁর নিয়োগ কার্যকর হলে দায়িত্বের পরিধি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতির পদ নিয়ে তাঁর সিদ্ধান্তও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ এবং বর্তমান পদ ছাড়ার বিষয়ে অভিনেতা কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই নজর থাকবে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টদের।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন