ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পুনরায় ভোট গণনার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের কর্মী-সমর্থকেরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নবগঠিত রুহিয়া উপজেলার মধুপুর কাকুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর কাকুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা শেষে ফলাফলের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর ভোটগ্রহণে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তারা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।
কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকেরা ভোট পুনর্গণনার দাবি তোলেন। একপর্যায়ে তাঁরা নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া গাড়ি থামিয়ে দেন এবং কেন্দ্রের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছান। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওই ভোটকেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন ২ হাজার ১৩০ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৪১৪ ভোট। কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ছিলেন ৩ হাজার ৮৭৫ জন। প্রকাশিত ফলাফলে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১৬।
ভোটের এই ব্যবধানের মধ্যেই পুনরায় গণনার দাবি সামনে আসে। তবে কেন ভোট পুনর্গণনা করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের নির্দিষ্ট অভিযোগ বা দাবির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, পুনর্গণনার দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের কোনো সিদ্ধান্তের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন বলেন, ওই কেন্দ্রে ভোট গণনা নিয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খলা হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ভোট গণনা শেষে ফলাফল প্রকাশের পর কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী সরঞ্জাম নিয়ে বের হওয়ার সময় এ অবরোধের ঘটনা ঘটে। তবে পুনরায় ভোট গণনা করা হবে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই কেন্দ্রের ঘটনা ঘিরে ভোট গণনার স্বচ্ছতা ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে পুনর্গণনার দাবি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।



মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন