বিকাশে টাকা পাঠাতে গিয়ে ভুল নম্বর দিলে যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি বিকাশ কর্তৃপক্ষকে জানানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিকাশের অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, ভুল নম্বরে Send Money হয়ে গেলে নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্ট নম্বর ও লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে সরাসরি লাইভ চ্যাটে কাস্টমার কেয়ার প্রতিনিধির কাছে অভিযোগ জানাতে হবে। পাশাপাশি ১৬২৪৭ নম্বরে কল করেও গ্রাহকসেবা নেওয়া যায়। তবে ভুল নম্বরে পাঠানো টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ভুলটি বুঝতে পারার পর প্রথমেই লেনদেনের এসএমএস বা বিকাশ অ্যাপের ট্রানজেকশন হিস্ট্রি সংরক্ষণ করুন। সেখানে থাকা Transaction ID, কত টাকা পাঠানো হয়েছে, কোন নম্বরে গেছে এবং লেনদেনের সময়ের তথ্য প্রয়োজন হতে পারে। এসব তথ্য হাতে রেখে বিকাশের অফিসিয়াল গ্রাহকসেবায় দ্রুত যোগাযোগ করলে অভিযোগটি পরিষ্কারভাবে জানানো সহজ হবে। ভুল নম্বর বা টাকার পরিমাণ যেন আবার ভুল না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

বিকাশের ওয়েবসাইটে ভুল নম্বরে টাকা পাঠানোর জন্য আলাদা গ্রাহকসেবা নির্দেশনা রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও লেনদেনের তথ্য নিয়ে Live Chat-এর মাধ্যমে কাস্টমার কেয়ার এক্সিকিউটিভের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে। বিকাশের গ্রাহকসেবা প্রতিনিধিরা ১৬২৪৭ ও লাইভ চ্যাটে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে থাকেন। ই-মেইলের মাধ্যমেও বিকাশের সহায়তা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যে নম্বরে ভুল করে টাকা পাঠানো হয়েছে, সেই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলে ভদ্রভাবে বিষয়টি জানানো যেতে পারে। তবে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে কেউ যদি আপনার বিকাশ PIN, OTP, ভেরিফিকেশন কোড বা অন্য কোনো গোপন তথ্য চায়, তা কোনো অবস্থাতেই দেওয়া যাবে না। বিকাশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা কখনো গ্রাহকের PIN বা গোপন কোড জানতে চান না। তাই টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টায় নতুন করে প্রতারণার শিকার না হওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই মনে করেন, ভুল নম্বরে টাকা গেলেই বিকাশ কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে সেই লেনদেন বাতিল করে টাকা ফেরত দিতে পারে। বাস্তবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। বিকাশের শর্ত অনুযায়ী, লেনদেনের সময় ভুল তথ্য দেওয়া বা ভুল অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর দায় সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ওপর বর্তায়। ফলে ভুল লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত অভিযোগ জানালেও টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে।

এ কারণে টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নম্বর ভালোভাবে যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ অভ্যাস। বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকা পাঠানোর সময় নম্বরের শেষ কয়েকটি সংখ্যা এবং প্রাপকের তথ্য একাধিকবার মিলিয়ে দেখা উচিত। বিকাশও প্রতিটি লেনদেনের আগে অ্যাকাউন্ট নম্বর, টাকার পরিমাণ ও অন্যান্য তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করার পরামর্শ দেয়। লেনদেন শেষে এসএমএস ও অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্সও পরীক্ষা করা উচিত।

ভুল নম্বরে টাকা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া অচেনা নম্বর বা কথিত ‘বিকাশ কর্মকর্তা’র সহায়তা নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রয়োজনে শুধু বিকাশের অফিসিয়াল লাইভ চ্যাট, ১৬২৪৭ হেল্পলাইন, গ্রাহকসেবা কেন্দ্র বা অফিসিয়াল ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করাই নিরাপদ। কেউ টাকা ফেরত দেওয়ার শর্ত হিসেবে PIN বা OTP চাইলে সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করতে হবে। সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে সেটিও বিকাশকে দ্রুত জানানো উচিত।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভুল লেনদেন বুঝতে পারার পর দেরি না করা। Transaction ID ও অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করে দ্রুত বিকাশের অফিসিয়াল কাস্টমার কেয়ারে অভিযোগ জানালে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। আর ভবিষ্যতে Send Money করার আগে নম্বর ও টাকার পরিমাণ আরেকবার যাচাই করার ছোট অভ্যাসই এমন ঝামেলা এড়াতে পারে। কয়েক সেকেন্ডের সতর্কতা অনেক সময় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে।