কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আগামী দুই দশকে বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর মতে, এআইয়ের দ্রুত বিকাশের ফলে চাকরির বাজার থেকে শুরু করে মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও ব্যাপক পরিবর্তন আসবে। এই প্রযুক্তির প্রভাব সামলাতে সমাজকে দীর্ঘ সময় ধরে অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত ‘ডিকোডার’ পডকাস্টের এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ৭০ বছর বয়সী বিল গেটস। তিনি জানান, এআইনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের ফলে সমাজের একাংশ লাভবান হলেও অন্যরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। ফলে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সুফল সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছাবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

গেটসের ধারণা, এই পরিবর্তনের সময়কাল প্রায় ২০ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে এটিকে নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন না তিনি। তাঁর মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির গতি এবং এআইয়ের বিকাশ কীভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে, তার ওপর এই সময়কাল নির্ভর করবে। সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে পরিবর্তনের গতি ও প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।

এআই ও মানুষের মতো দেখতে রোবটের উন্নয়নের ফলে ভবিষ্যতে অনেক কাজ যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন গেটস। বাড়ি নির্মাণ, খাদ্য উৎপাদন এমনকি অস্ত্রোপচারের মতো জটিল কাজেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়তে পারে। এতে পণ্য ও সেবার উৎপাদন বাড়বে এবং মানুষের প্রয়োজন মেটানো আগের তুলনায় সহজ হতে পারে।

তবে সব কাজ যে যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া হবে, এমনটা মনে করেন না তিনি। শিশুর যত্ন নেওয়া, রান্না করা, শিল্পচর্চা এবং খেলাধুলার মতো কাজ মানুষ নিজেরাই করতে চাইতে পারে। এসব ক্ষেত্রে মানুষের ব্যক্তিগত পছন্দ, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে এআইয়ের বিস্তার ঘটলেও কিছু কাজে মানুষের অংশগ্রহণ বজায় থাকতে পারে।

স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিতে এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী গেটস। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি চিকিৎসা এবং খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে সরকার ও সমাজ এখনো যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন।

এআইয়ের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে গেটস সাইবার হামলা ও জীববৈজ্ঞানিক হুমকি মোকাবিলায় সরকারি নজরদারি এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, এআইয়ের কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব শুধু প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সরকার, প্রতিষ্ঠান এবং সমাজকে সম্মিলিতভাবে এ বিষয়ে কাজ করতে হবে।

গেটসের মতে, সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতিতেও এআইয়ের বিকাশ মানব ইতিহাসের অন্যতম বড় পরিবর্তন ও অস্থিরতার সময় তৈরি করতে পারে। তবে এই পরিবর্তন কীভাবে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিচালনার সিদ্ধান্তের ওপর। তাই এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি এর ঝুঁকি মোকাবিলায় এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।