তাহসান খান কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের পাশে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-এর শুভেচ্ছাদূত হিসেবে বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী এই সফরে তিনি ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন এবং রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
সফরকালে তাহসান খান রোহিঙ্গা যুবকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেন। তারা নিজেদের শিক্ষা, দৈনন্দিন জীবন, নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তরুণদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার পাশাপাশি তাদের আত্মবিশ্বাস ও ইতিবাচক মনোভাবের প্রশংসা করেন এই জনপ্রিয় শিল্পী।
তাহসান খান বলেন, দীর্ঘদিন নিজ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন থেকেও রোহিঙ্গা তরুণরা যেভাবে শিক্ষা গ্রহণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। তিনি মনে করেন, শুধু মানবিক সহায়তা নয়, দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। এতে ভবিষ্যতে তারা নিজ দেশে ফিরে সমাজ পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
পরিদর্শনের সময় তিনি ক্যাম্পে পরিচালিত বিভিন্ন কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও ঘুরে দেখেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রোহিঙ্গা তরুণ-তরুণীরা জানান, এসব কর্মসূচি তাদের নতুন দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করছে এবং ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত হতে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা বিশ্বাস করেন, একদিন নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে গেলে এই অভিজ্ঞতা তাদের নতুন জীবন গঠনে কাজে লাগবে।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাহসান খান। তিনি বলেন, যেসব মানুষের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, তাদের প্রত্যেকেরই একদিন সম্মানের সঙ্গে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তাই বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের উচিত এই মানবিক সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক ইস্যু। এমন বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা সংকটটি নিয়ে নতুন করে বৈশ্বিক সচেতনতা তৈরি করতে সহায়ক হতে পারে। তাহসান খানের এই সফরও সেই সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



























