নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে ব্রাজিলের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। চোট কাটিয়ে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচেও তাকে মাঠে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে সরাসরি নকআউট পর্ব থেকেই ব্রাজিলিয়ান তারকার প্রত্যাবর্তন হতে পারে।
চোটের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ২০২৬ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে নেইমারকে রেখেছিলেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে দলটির মেডিকেল বিভাগ শুরু থেকেই তাকে নিয়ে কোনো ধরনের তাড়াহুড়া করতে রাজি নয়। ব্রাজিলের মূল লক্ষ্য এখন তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত করা।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচের আগে এখনও অনুশীলনে ফিরতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দলের অনুশীলন ক্যাম্পে সোমবারও তিনি সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেননি। বরং আলাদাভাবে পুনর্বাসন কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।
ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তার ফিটনেস নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া হবে না। ফলে গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্তই সবচেয়ে সম্ভাব্য বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস এফসির হয়ে খেলতে গিয়ে পায়ের পেশিতে গ্রেড-টু চোট পান নেইমার। এরপর থেকেই তিনি পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। যদিও সেই চোট পুরোপুরি কাটিয়ে এখনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারেননি।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এক সপ্তাহ আগে যে মেডিকেল পরীক্ষা করা হয়েছিল, সোমবার সেটি আবারও করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক ফলাফল এখনও প্রকাশ করেনি ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। চিকিৎসকদের চূড়ান্ত মূল্যায়নের ওপরই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, চিকিৎসক দলের প্রধান লক্ষ্য হলো নকআউট পর্বের আগে নেইমারকে শতভাগ ফিট করে তোলা। সে কারণে গ্রুপ পর্বে তাকে মাঠে নামানোর সম্ভাবনা খুবই কম। দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক পথই বেছে নিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এরই মধ্যে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে নেইমার বেঞ্চে উপস্থিত থাকলেও তাকে দলীয় জার্সিতে দেখা যায়নি। এটি তার শারীরিক অবস্থার বিষয়টিকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
এখন ব্রাজিলের সামনে রয়েছে হাইতির বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। এরপর আগামী ২৪ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। এই দুই ম্যাচেই নেইমারকে বিশ্রামে রাখা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নেইমারের অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতা ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সাময়িকভাবে তাকে ছাড়াই মাঠে নামতে হলেও, দলের মূল লক্ষ্য হলো নকআউট পর্বে নিজেদের অন্যতম বড় তারকাকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়া।

























